×
ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জমি কেনার আগে মোবাইলে যাচাই করুন এই ৬টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৭:১৫:৪৩
জমি কেনার আগে মোবাইলে যাচাই করুন এই ৬টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: জমি কেনার আগে বিক্রেতা প্রকৃত মালিক কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। জমির মালিকানা নিয়ে অসংগতি, ভুয়া দলিল কিংবা কাগজপত্রের জটিলতায় ক্রেতাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এখন ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরকারি ওয়েবসাইটে জমির খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ডের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা যায়।

অনলাইনে জমির রেকর্ড যাচাই করে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, মৌজা এবং রেকর্ডে থাকা মালিকের নাম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব। এতে জমি কেনার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সহজ হয়। তবে মনে রাখতে হবে, অনলাইন রেকর্ড দেখা মানেই জমির চূড়ান্ত মালিকানা নিশ্চিত হওয়া নয়।

মোবাইল ফোনে জমির রেকর্ড দেখবেন যেভাবে

জমির রেকর্ড যাচাই করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট land.gov.bd ব্যবহার করতে পারেন। অনলাইন খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটেও প্রবেশ করা যায়।

মোবাইল ফোনে জমির তথ্য দেখতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

প্রথম ধাপ: মোবাইল ফোনের ব্রাউজার খুলে dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: ওয়েবসাইটে থাকা খতিয়ান বা ভূমি রেকর্ডসংক্রান্ত সেবা নির্বাচন করুন।

তৃতীয় ধাপ: জমির অবস্থান অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য নির্বাচন করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য তথ্যও দিতে হতে পারে।

চতুর্থ ধাপ: খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন। সংশ্লিষ্ট সেবায় নাম দিয়ে অনুসন্ধানের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন।

পঞ্চম ধাপ: অনুসন্ধানের ফলাফলে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে জমির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র মিলিয়ে দেখুন। কোনো তথ্যের অমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।

ওয়েবসাইটের সেবার ধরন ও হালনাগাদের ওপর নির্ভর করে অনুসন্ধানের পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

অনলাইনে জমির রেকর্ড দেখার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে—

মালিকের নাম: রেকর্ডে কার নাম রয়েছে, তা যাচাই করুন।

খতিয়ান নম্বর: সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের তথ্য জমির কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

দাগ নম্বর: বিক্রির জন্য দেখানো জমির দাগ নম্বর রেকর্ডের সঙ্গে মেলে কি না, যাচাই করুন।

জমির পরিমাণ: দলিল, খতিয়ান ও বিক্রেতার দেওয়া তথ্যের মধ্যে মিল রয়েছে কি না দেখুন।

মৌজা ও অবস্থান: জমিটি সঠিক এলাকায় অবস্থিত কি না, তা নিশ্চিত করুন।

মালিকানার অংশ: জমিটি একাধিক ব্যক্তির নামে থাকলে প্রত্যেকের অংশ ও বিক্রির অধিকার যাচাই করুন।

এসব তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে জমির রেকর্ডে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

না। অনলাইন খতিয়ানে কোনো ব্যক্তির নাম থাকলেই তিনি জমিটির বর্তমান ও নিরঙ্কুশ বৈধ মালিক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। রেকর্ড হালনাগাদ না থাকা, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা পরিবর্তন, একাধিক ব্যক্তির অংশীদারত্ব কিংবা দলিলের সঙ্গে রেকর্ডের অমিল থাকতে পারে।

তাই জমি কেনার আগে বিক্রেতার মূল দলিল, আগের দলিলের ধারাবাহিকতা, খতিয়ান, নামজারি এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জমির বাস্তব দখল, সীমানা ও পরিমাণ সরেজমিনে মিলিয়ে দেখা উচিত।

জমিটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলে অন্য ওয়ারিশদের অধিকার রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। জমি নিয়ে মামলা, বন্ধক বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না, তা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

জমির কাগজপত্রে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে শুধু বিক্রেতার মৌখিক আশ্বাসে লেনদেন করা উচিত নয়। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে রেকর্ড যাচাই করুন এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

জমির মালিকানা ও বিক্রির অধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। অনলাইন রেকর্ড প্রাথমিক যাচাই সহজ করলেও দলিল, নামজারি, দখল ও অন্যান্য আইনি বিষয় একসঙ্গে যাচাই করাই নিরাপদ।

সঠিকভাবে তথ্য যাচাই করলে জমি কেনার ক্ষেত্রে প্রতারণা ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে