×
ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ভুল করে অন্যের নামে জমি রেকর্ড? সংশোধনের জন্য লাগবে যেসব কাগজ

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১৭:০৬:৫৫
ভুল করে অন্যের নামে জমি রেকর্ড? সংশোধনের জন্য লাগবে যেসব কাগজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের কেনা কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি ভুলবশত অন্যের নামে রেকর্ড হলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য জমির মালিকানার প্রমাণ, রেকর্ডে ভুলের ধরন এবং খতিয়ান চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি। ভুলের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল অথবা উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে হতে পারে।

জরিপের সময় তথ্য সংগ্রহে ভুল, জমি কেনার পর নামজারি না করা, উত্তরাধিকারীদের নাম বাদ পড়া কিংবা জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতারণার কারণে জমি অন্যের নামে রেকর্ড হতে পারে। তবে খতিয়ানে কারও নাম থাকলেই সব ক্ষেত্রে তাঁকে জমির চূড়ান্ত মালিক বলা যায় না। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে দলিল, পূর্ববর্তী খতিয়ান, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করতে হয়।

জমির রেকর্ড সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে

অন্যের নামে রেকর্ড হওয়া জমির মালিকানা দাবি করতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত নিচের কাগজপত্র কাজে আসতে পারে—

১. নিবন্ধিত দলিল: জমি কেনা হলে ক্রয়দলিল এবং প্রয়োজনে আগের মালিকের দলিল।

২. পুরোনো ও বর্তমান খতিয়ান: সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা সংশ্লিষ্ট জরিপের খতিয়ান।

৩. জমির পরিচিতি: মৌজার নাম, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর ও জমির পরিমাণ।

৪. নামজারির নথি: নামজারি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলার আদেশ ও অন্যান্য কাগজপত্র।

৫. উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি: উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়া হলে ওয়ারিশ সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বণ্টননামা।

৬. ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ: কর পরিশোধের রসিদ ও দখলসংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক প্রমাণ।

৭. মামলার নথি: জমি নিয়ে আগে মামলা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ ও রায়।

সব ক্ষেত্রে সব নথি প্রয়োজন হয় না। জমির মালিকানা কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং কী ধরনের ভুল হয়েছে, তার ওপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ভর করবে।

কী ধরনের ভুল হলে কোথায় যাবেন?

১. নামের বানান বা হিসাবের ভুল হলে

খতিয়ানে নামের বানান, জমির পরিমাণ, হিস্যা কিংবা গাণিতিক হিসাবে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের কাছে সংশোধনের আবেদন করা যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সেই ভুল সংশোধনের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা আগে যাচাই করতে হবে।

২. জরিপের খতিয়ানে অন্যের নাম থাকলে

জরিপের সময় প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির নাম রেকর্ড হলে দলিল, পুরোনো খতিয়ান ও জরিপের নথি মিলিয়ে দেখতে হবে। খতিয়ানটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে, নাকি চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত সর্বশেষ সংশোধিত রেকর্ড নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৫ক ধারার অধীনে প্রতিষ্ঠিত ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত সময়সীমা ও অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।

৩. জাল দলিল বা প্রতারণার মাধ্যমে জমি রেকর্ড হলে

জাল দলিল, মিথ্যা তথ্য কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের নামে জমি রেকর্ড করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। বিরোধের ধরন অনুযায়ী ভূমি কর্তৃপক্ষ, দেওয়ানি আদালত অথবা অন্য উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাইতে হতে পারে।

এ ধরনের ঘটনায় শুধু রেকর্ড সংশোধনের আবেদন যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৪. অন্যের নামে নামজারি হলে

জমির নিবন্ধিত দলিল নিজের নামে থাকা সত্ত্বেও অন্য ব্যক্তির নামে নামজারি হলে সংশ্লিষ্ট নামজারি মামলার নথি ও আদেশ সংগ্রহ করুন। কোন দলিল বা তথ্যের ভিত্তিতে নামজারি করা হয়েছে, তা যাচাই করা জরুরি।

নামজারির প্রক্রিয়ায় ভুল থাকলে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী আপিল, পর্যালোচনা বা সংশোধনের সুযোগ থাকতে পারে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে শুধু নামজারি সংশোধন করেই সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নাও হতে পারে।

আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন

জমির পরিচিতি: মৌজা, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর ও জমির পরিমাণ মিলিয়ে নিন।

মালিকানার প্রমাণ: জমি কেনা বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল ও নথি প্রস্তুত রাখুন। শুধু করের রসিদ বা জমির দখল সব ক্ষেত্রে মালিকানা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়।

রেকর্ডের অবস্থা: খতিয়ানটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে, নাকি চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা নিশ্চিত করুন।

বিরোধের ধরন: সাধারণ করণিক ভুল, নামজারির সমস্যা ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ এক বিষয় নয়। সমস্যার ধরন অনুযায়ী সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হবে।

আইনি সময়সীমা: নির্দিষ্ট ধরনের মামলা বা প্রতিকারের ক্ষেত্রে সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। তাই ভুল শনাক্ত হওয়ার পর অযথা দেরি না করে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সরকারি ভূমিসেবা পাবেন কোথায়?

জমির খতিয়ান, নামজারি ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্যের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা পোর্টাল: https://land.gov.bd/

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর: https://dlrs.gov.bd/

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন: https://bdlaws.minlaw.gov.bd/

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস, জেলা প্রশাসনের ভূমি শাখা অথবা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

অন্যের নামে জমি রেকর্ড হলে নিজের নামে সংশোধন করা সম্ভব কি না, তা নির্ভর করে মালিকানার প্রমাণ, ভুলের ধরন এবং রেকর্ডের বর্তমান অবস্থার ওপর। তাই প্রথমে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাইতে হবে। জটিল বিরোধের ক্ষেত্রে ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে