×
ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রাত সাড়ে ১১টায় ডেকে নেওয়া হয় বৃদ্ধাকে, পুলিশের তদন্তে যা উঠে এল

২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৮:৫০:১১
রাত সাড়ে ১১টায় ডেকে নেওয়া হয় বৃদ্ধাকে, পুলিশের তদন্তে যা উঠে এল

নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁর ধামইরহাটে হালিমা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বৃদ্ধার জমানো টাকা ও সম্পদের প্রতি লোভ, জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং মাদক বিক্রির তথ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর আগে গত সোমবার সকালে ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানখেত থেকে হালিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, হালিমা বেগম ছিলেন স্বামীহীন ও নিঃসন্তান। তিনি বাবার বাড়িতে ছোট ভাইয়ের ঘরের পেছনে একটি ছাপরা ঘরে বসবাস করতেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। নিজের উপার্জন থেকে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন এবং তাঁর সম্পত্তিও ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অর্থ ও সম্পদের প্রতি লোভ ছিল তাঁর ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর। এ ছাড়া একই গ্রামের আরও তিন প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং মাদক বিক্রির তথ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল।

হালিমা বেগম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তাঁর ছোট ভাই মজনু রহমান, ভাইয়ের স্ত্রী হোসনে আরা এবং একই গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম, হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান।

পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হালিমার মরদেহ উদ্ধারের পর ধামইরহাট থানায় হত্যা মামলা করা হয়। এরপর তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে প্রথমে মজনু রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামিদুর রহমান কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। পরে অন্য আসামিরা তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যান। সেখানে রশি দিয়ে তাঁর হাত বেঁধে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মজনুর স্ত্রী হোসনে আরা হালিমার কানে থাকা সোনার দুল খুলে নেন। এ সময় তাঁর একটি কানের লতি কেটে যায় এবং অন্যটি ছিঁড়ে যায়। পরে মরদেহটি বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে আসামিরা চলে যান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নিঃসন্তান বৃদ্ধা হালিমা বেগমের হত্যাকাণ্ডে সম্পত্তির লোভ, পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে