×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর ইশরাকের বিস্ফোরক পোস্ট

২০২৬ অক্টোবর ২০ ১১:১১:৫৪
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর ইশরাকের বিস্ফোরক পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ইশরাক হোসেন এবার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন। মাদক সমস্যা নিয়ে কথা না বলে নিজের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দেওয়ায় নাহিদের সমালোচনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই নেতা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ইশরাক হোসেন এসব মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, মাদকের বিস্তার ও এর প্রতিকার নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ সামনে আনা হয়েছে।

এর আগে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, তাঁর পদত্যাগের কারণ সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। ইশরাকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, সেটিও পরিষ্কার করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শুধু পদত্যাগকে এ ক্ষেত্রে সমাধান হিসেবে দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইশরাক।

ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, নাহিদকে তিনি একসময় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের একজন ধারক হিসেবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু তাঁর মতে, সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ মাদকের সমস্যা ও এর প্রতিকার নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইশরাকের বক্তব্য, মাদকের সমস্যা নিয়ে আগে আলোচনা করা হলে ভালো হতো। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে কথা বলা যেত। এ প্রসঙ্গে তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশেও মন্তব্য করেন যে, এনসিপির মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পাওয়ার বিষয়ে তিনি হতাশ।

নিজের পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দলটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারবে না।

তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী মামলা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনি আইনের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

ইশরাক হোসেন তাঁর বক্তব্যে আবারও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মাদক নির্মূলে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে অন্যভাবে প্রতিকার করার ইঙ্গিতও দেন তিনি। বড় মাদক ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন।

এর আগে গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করার ঘোষণা দেন।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনগত দিকও আলোচনায় রয়েছে। একদিকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক, অন্যদিকে তাঁর অভিযানের সময় কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, তা যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে