×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইশরাক বিতর্কের মাঝেই ববি হাজ্জাজের অনুসারীদের অভিযান

২০২৬ অক্টোবর ২০ ০৭:১৭:১৫
ইশরাক বিতর্কের মাঝেই ববি হাজ্জাজের অনুসারীদের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র রাজনৈতিক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে স্থানীয় থানাকে না জানিয়ে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়েছেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের কার্যালয়ের লোকজন। আলোচিত এই অভিযানে আরিফ হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে বেদম মারধর করার ফলে তাঁর মাথা ফেটে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ইশরাকের অস্ত্র হাতে ঝটিকা অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতে মোহাম্মদপুরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর লোকজনের এমন অভিযান পরিচালনা নতুন করে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত রবিবার রাত এগারোটার দিকে জেনেভা ক্যাম্পের কলেজ গেট এলাকায় ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের অফিশিয়াল কার্যালয় থেকে এই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ববি হাজ্জাজের নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধানের সরাসরি নির্দেশনায় সুদীন ও জিসানসহ চার থেকে পাঁচজন যুবক এই কার্যক্রমে অংশ নেয়, যারা এলাকায় মূলত সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত।

যদিও এই অভিযানের দায় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছেন মাশুক প্রধান। তাঁর দাবি, সংসদ সদস্যের অফিশিয়াল কোনো টিম বা নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হয়নি। তাঁর ভাষ্যমতে, এলাকায় একটি নাগরিক সংগঠন রয়েছে যারা মাঝেমধ্যে নিজ উদ্যোগে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ‘ওই অভিযান এমপি মহোদয়ের নয় এবং তাঁর তরফ থেকেও এ রকম কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযান চলাকালে মাদক সেবনরত অবস্থায় আরিফকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে মারধর করার একপর্যায়ে আঘাত লেগে তার মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে থানায় নেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত আরিফের মাথায় মোট চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।

জেনেভা ক্যাম্পের এই আকস্মিক অভিযান সম্পর্কে স্থানীয় থানাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, এই ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার বিষয়ে থানাকে বিন্দুমাত্র অবহিত করা হয়নি। তবে আরিফ নামের ওই যুবকের মাথা ফেটে যাওয়ার পর পুলিশকে ফোন করা হয় এবং পুলিশ গিয়ে তাকে জখম অবস্থায় নিজেদের গাড়িতে তুলে আনে।

পরবর্তীতে আরিফকে ডোপ টেস্টের উদ্দেশ্যে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাঁর শরীরে মাদক সেবনের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এরপর তাঁকে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ইশরাক হোসেন যে স্থানে অতীতে অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন, সেই দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকার রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন বস্তিগুলোতে গতকাল সোমবার বিকেলে পৃথক ও আনুষ্ঠানিক অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ কার্যালয়ের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ওই অভিযানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মোট ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ছাড়া অভিযانকালে মাদক সেবনের নানা সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে