×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি স্বামী -স্ত্রী, জানা গেল আসল সত্য

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ২১:৪৬:৩০
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি স্বামী -স্ত্রী, জানা গেল আসল সত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় কূটনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কী ধরনের তথ্য জানানো হয়েছিল—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েছে ঢাকা। এ ঘটনায় ব্যাখ্যা জানতে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর নাজিরুল ইসলাম ও শীতি আক্তার নামের দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে পবিত্র মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট বিবরণ, মামলার প্রমাণ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ দূতাবাসকে কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ মিশনে প্রায় আড়াই হাজার বন্দির একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। তবে ওই তালিকায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে।

তালিকায় একজনের নামের পাশে ‘ব্যভিচার’ এবং অন্যজনের নামের পাশে ‘আইসিটি’ (ICT) লেখা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংক্ষিপ্ত শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ কী এবং সংশ্লিষ্ট মামলার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী, তা নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ মিশন কনসুলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথি ও সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটির ব্যাখ্যা জানতে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে কী তথ্য জানানো হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ঢাকার উদ্বেগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা বা বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে নাজিরুল ইসলাম ও শীতি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো দাপ্তরিক নথির তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের শুধু দুই বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়ে থাকলে, অতিরিক্ত প্রমাণ ছাড়া তাঁদের দম্পতি হিসেবে পরিচয় করানো যথাযথ হবে না। একইভাবে, মামলার অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নথি ছাড়া ঘটনার সব দিক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘিরে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—কোন নির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁদের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল, আদালতে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের কী সুযোগ পেয়েছিলেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ মিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল কি না।

ভিয়েনা কনভেনশন ও কনসুলার যোগাযোগসংক্রান্ত বিধান এ ঘটনায় কীভাবে প্রযোজ্য, তা নির্ধারণেও মামলার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্রাথমিক প্রতিবেদন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য, বিচারসংক্রান্ত নথি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর

উ
প
রে