×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের মাটিতেই ভারতের কর্মকর্তাদের শূলে তুলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ০৯:৫৯:৪৪
ভারতের মাটিতেই ভারতের কর্মকর্তাদের শূলে তুলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আসন্ন ভারত সফরে নয়াদিল্লির পরিবর্তে মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের সূচি ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের নেতারা এ নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিদেশি অতিথিদের বিভিন্ন শহরে স্বাগত জানানো দেশটির দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কো রুবিওর ভারত সফরের অংশ হিসেবে ২০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। সফরে রুবিওর গুজরাটের জামনগরেও যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বৃহৎ তেল শোধনাগার অবস্থিত। মার্কিন প্রশাসনের সফরসূচিতে নয়াদিল্লি না থাকায় বিষয়টি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মুম্বাইয়ে বৈঠক আয়োজনের বিষয়টিকে বিরোধী কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা ভারতের কূটনৈতিক মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁদের বক্তব্য, একজন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অতিথির সফরসূচি ও বৈঠকের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তবে বৈঠকটি মুম্বাইয়ে আয়োজন করা হয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তলব’ করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নেই। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিয়েছে।

কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী রুবিওর সফর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, রুবিও যেন নিজের কোনো কর্মীকে মুম্বাইয়ে ডেকে পাঠিয়েছেন। একই পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান।

কংগ্রেসের সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সফরের ঘোষণা ও বৈঠকের স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন। দলটির নেতারা জানতে চেয়েছেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন আগে থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সফরের তথ্য প্রকাশের পরই কেন এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বিদেশি অতিথিদের বিভিন্ন ভারতীয় শহরে স্বাগত জানানো নতুন কোনো ঘটনা নয়; গত এক দশক ধরেই এ ধরনের আয়োজন হয়ে আসছে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, রুবিওর সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠকে জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

অর্থাৎ, বৈঠকের স্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও দুই দেশের সরকারি বক্তব্যে আলোচনার বিষয় হিসেবে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রুবিওর ভারত সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। জামনগরে রিলায়েন্সের তেল শোধনাগার পরিদর্শন এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ সফরের বাণিজ্যিক দিকটিকেও সামনে এনেছে।

রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা রয়েছে। তবে রুবিওর মুম্বাই সফরকে শুধু রুশ তেল আমদানি বন্ধের চাপ বা কোনো নির্দিষ্ট করপোরেট স্বার্থের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করার মতো নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই।

রুবিওর সফরকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা, কূটনৈতিক প্রটোকল এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের নেতারা বিষয়টিকে সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের বিভিন্ন শহরে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠক আয়োজন দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থা।

সুতরাং, মুম্বাইয়ে জয়শঙ্কর-রুবিও বৈঠক নিয়ে বিতর্কের মূল বিষয় শুধু বৈঠকের স্থান নয়; বরং সফরের পরিকল্পনা কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য কী—সেই প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে