×
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বগুরুর মুখোশ ও পতনের সাইরেন

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ২১:৪৭:৪৭
বিশ্বগুরুর মুখোশ ও পতনের সাইরেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত এক দশক ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে গড়ে তোলা এই ইমেজের মূল ভিত্তি ছিল ‘ছাপ্পান্ন ইঞ্চির ছাতি’, যা দিয়ে তিনি নিজেকে এক অপরাজেয় ও শক্তিশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। কিন্তু আজ, লন্ডনের রাস্তায় এক ছোট বানরের প্রতীকের সামনে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান আর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রমাণ করছে যে, সেই ইমেজের পতন অনিবার্য।

মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন আর প্রথাগত শ্লোগানে সীমাবদ্ধ নেই। লন্ডনের রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা একটি ছোট খেলনা বানর নিয়ে যে বিদ্রূপাত্মক প্রতিবাদ করছেন, তা সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অহংকারী ইমেজের ওপর আঘাত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখন কোনো শাসকের বিরুদ্ধে মানুষের ভয়ের দেয়াল ভেঙে যায় এবং তারা তাকে নিয়ে বিদ্রূপ বা ট্রল করতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে সেই শাসনের পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে।

সরকার এতদিন পুলিশ ও রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল, কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে তা আর কার্যকর হচ্ছে না। ভারতের প্রতিটি রাস্তায় সাধারণ মানুষের করা ভিডিও, প্রতিবাদের খবর মুহূর্তের মধ্যে সারা বিশ্বের টাইমলাইনে পৌঁছে যাচ্ছে। মোদী সরকার এটি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে, মানুষের স্মার্টফোন থেকে প্রতিবাদী কণ্ঠ থামানোর কোনো প্রযুক্তি বা শক্তি তাদের হাতে নেই।

মোদী সরকারের ক্ষমতার মূল উৎস ছিল আম্বানি-আদানির মতো ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের সমর্থন। কিন্তু এই লবিগুলো এখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ছে। পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও থিংক ট্যাংক এখন মোদী সরকারের উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছে। হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক সম্মাননাগুলোতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিত্বের উত্থান ভারতের রাজনৈতিক ইমেজের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাউথ ব্লকের কর্তারা আজ এক গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। মোদী হয়তো ভেবেছিলেন তিনি নিজেই ইতিহাসের নির্মাতা, কিন্তু বাস্তবতা হলো—তিনি এখন নিজেই নিজের তৈরি মিথ্যার জালে আটকে পড়েছেন। যখন কোনো শাসক দেশের সংখ্যালঘু, কৃষক এবং তরুণদের দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে, তখন সেই শক্তির বিরুদ্ধেই সাধারণ মানুষের ঘৃণা জমা হয়।

পরিশেষে বলা যায়, আজ ভারতের মাটিতে যে জনরোষ তৈরি হয়েছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সুদীর্ঘ অস্থিরতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। নরেন্দ্র মোদী এবং তার সহযোগীরা এখন বুঝতে পারছেন, লাঠি বা ক্ষমতার দাপট দিয়ে আর কতদিন এই ক্রোধ ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব? ইতিহাসের পাতায় অহংকারী স্বৈরাচারীদের পতন যেমন লজ্জাজনক ও দ্রুত হয়েছিল, মোদী সরকারের ভবিষ্যৎও হয়তো সেই একই পথে এগোচ্ছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে