×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কারণ জানতে চাইলেন আমির হামজা

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১২:০৭:১৮
অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কারণ জানতে চাইলেন আমির হামজা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মুফতি আমির হামজার তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। অন্যদিকে, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। পাশাপাশি মাহফিলে অংশ নিতে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসতে নিষেধ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মুফতি আমির হামজা মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কারণ জানতে চান। তিনি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আমির হামজা বলেন, একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, প্রশাসনকে তা স্পষ্ট করতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে সেটিও যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ন্যায়বিচার, মানুষের অধিকার এবং ধর্মীয় বিষয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান হওয়া প্রয়োজন। মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

এদিকে, মাহফিল বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় মাহফিল বন্ধের এ ধরনের প্রবণতা থেকে সরে না এলে সরকারকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

প্রশাসনের পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়োজকদের প্রস্তুতি অনুযায়ী, গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে মাহফিল আয়োজনের জন্য প্যান্ডেল তৈরির কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার পর প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠানো হয় এবং অতিথিদের উপস্থিত না হওয়ার জন্য জানানো হয়।

তবে প্রশাসন ঠিক কী কারণে মাহফিলের অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। কোনো নিরাপত্তাজনিত কারণ, লিখিত আদেশ কিংবা নির্দিষ্ট আইনি বিধানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি এবং জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলে সিদ্ধান্তের কারণ সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের কাছে স্পষ্ট করা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

গোদাগাড়ীর এ ঘটনা নিয়ে জামায়াতের দুই সংসদ সদস্যের বক্তব্যে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের কারণ ও আইনি ভিত্তি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয় কি না, সেদিকে নজর রয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে