×
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আইসিসির নতুন নিয়মে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কেন বিপাকে?

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:৫১:০৯
আইসিসির নতুন নিয়মে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কেন বিপাকে?

ক্রীড়া প্রতিবেদক: আইসিসির ওয়ানডে ফরম্যাটের নতুন নিয়ম বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য চরম এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। একদিকে ইনিংসের শেষ দিকে রান তোলায় বড় ধরনের খরা চলছে, অন্যদিকে ডেথ ওভারে লাগামহীনভাবে রান দিয়ে যাচ্ছেন বোলাররা। অথচ আইসিসির এই একই নিয়মের সুফল নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য ক্রিকেট দলগুলো বোলিংয়ে দুর্দান্ত সাফল্য পাচ্ছে এবং ব্যাটিংয়েও নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ওয়ানডে ক্রিকেটে বল ব্যবহারের নতুন এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সামনে এক জটিল ধাঁধার সৃষ্টি করেছে। দলের বোলাররা পর্যাপ্ত সুইং আদায় করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত তা উইকেট শিকার বা কিপটে বোলিংয়ে রূপান্তর করতে পারছেন না। একইসঙ্গে প্রতিপক্ষের বোলারদের করা রিভার্স সুইং সামাল দিতে গিয়ে রীতিমতো নাকাল হচ্ছেন লাল-সবুজের ব্যাটাররা।

এই সংকটের সর্বশেষ চিত্র দেখা গেল গত শনিবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের একটি ম্যাচে। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ, ফলে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেসার তাসকিন আহমেদও দলের প্রধান দুর্বলতা হিসেবে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করেন।

যদিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে দলের পক্ষে সেরা বোলিংটি করেছিলেন তাসকিন নিজেই, যিনি ১০ ওভারে ৪৪ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেন। তবে একটু গভীরে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ম্যাচের শুরুর দিকে বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও ডেথ ওভারে এসে তিনি ঠিকই রান বিলিয়েছেন। প্রথম স্পেলে ৬ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়া তাসকিন শেষ দুই ওভারে কোনো উইকেট না পেয়ে গুণে গুণে ১৯ রান খরচ করেন।

একই দশায় পড়েছিলেন আরেক অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। 'কাটার মাস্টার'খ্যাত এই বোলার ম্যাচের ডেথ ওভারে ৩ ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেয়েই ২৪ রান খরচ করে বসেন, অথচ ম্যাচের ওই সময়েই তাঁর সবচেয়ে নিখুঁত ও কিপটে বোলিং করার কথা ছিল। বোলিংয়ের এই বেহাল দশার মূল রহস্য লুকিয়ে আছে গত বছরের জুলাই মাসে আইসিসির আনা সাদা বলের নিয়ম পরিবর্তনের ভেতরে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ানডে ইনিংসে প্রথম ৩৪ ওভার দুই প্রান্ত থেকে দুটি ভিন্ন বল দিয়ে খেলা হয় এবং এরপর অধিনায়ক যেকোনো একটি বল বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। বাকি ১৬ ওভার খেলা হয় সেই পুরোনো ও খসখসে বলটি দিয়ে, যা মূলত রিভার্স সুইং করানোর জন্য সবচেয়ে উপযোগী। ক্রিকেট বিশ্লেষণ সংস্থা ক্রিকভিজের তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ম চালুর পর থেকেই ওয়ানডেতে রিভার্স সুইংয়ের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইনিংসের শেষ ভাগে পেসাররা আগের তুলনায় অনেক বেশি সুইং পাওয়ায় ব্যাটারদের জন্য ক্রিজে টিকে থেকে রান তোলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বের অনেক দল এই পরিবর্তনের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিলেও বাংলাদেশ দল একই সঙ্গে ব্যাটিং এবং বোলিং—দুটি বিভাগেই সমানভাবে মার খাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, নতুন নিয়ম চালুর পর ডেথ ওভারে সবচেয়ে বেশি বল সুইং করানোর শীর্ষ চার পেসারের তালিকার প্রথম দিকেই নাম রয়েছে বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের। মোস্তাফিজের বোলিংয়ে সুইংয়ের পরিমাণ প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বাড়লেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব সাফল্যে পড়েনি। ডেথ ওভারে তাঁর বোলিং গড় ৫.৩ এবং ইকোনমি রেট প্রায় ০.৯ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত সুইং পেয়েও উইকেট পেতে তাঁকে আগের চেয়ে অনেক বেশি রান খরচ করতে হচ্ছে।

তাসকিন আহমেদের ক্ষেত্রেও চিত্রটি প্রায় একই রকম। তাঁর বোলিংয়ে সুইং প্রায় ৪০.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও বোলিং গড় ১.৯ এবং ইকোনমি রেট ১.৬ বেড়ে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সফল পেসারদের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বাংলাদেশের বোলারদের সাথে তাদের স্পষ্ট পার্থক্য চোখে পড়ে। যেমন— ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলজারি জোসেফের সুইং ৮৩.৬ শতাংশ বাড়ার পাশাপাশি তাঁর বোলিং গড় ৬.৭ কমেছে। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডির সুইং ৬ইং ৬৩.৩ শতাংশ বাড়ার সুবাদে তাঁর বোলিং গড় ১০.৬ এবং ইকোনমি রেট ৩.৩ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

হাবিব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর

উ
প
রে