×
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

এনআইডির ভুল ঠিক করতে নির্বাচন অফিসে যাওয়ার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন

২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১১:৩৩:০৩
এনআইডির ভুল ঠিক করতে নির্বাচন অফিসে যাওয়ার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোন তথ্য সংশোধন করতে কী কী কাগজপত্র জমা দিতে হবে, তা নির্ভর করে ভুলের ধরন, সংশোধনের পরিমাণ এবং আবেদনকারীর কাছে থাকা প্রমাণপত্রের ওপর। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখা জরুরি।

নাম সংশোধনে যেসব কাগজ লাগবে

এনআইডিতে নিজের নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের জন্য সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদসহ নামের সঠিকতা প্রমাণ করে এমন নথি প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বিবাহিত ব্যক্তিদের জন্য কাবিননামা বা স্বামী-স্ত্রীর এনআইডির অনুলিপি জমা দেওয়া যেতে পারে।

সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত অনুলিপি, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা এবং জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি চাওয়া হতে পারে। এ ধরনের আবেদনে মূল কাগজপত্র প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজনও হতে পারে।

বাবা-মায়ের নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় নথি

এনআইডিতে বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের জন্য শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং বাবা-মায়ের এনআইডির অনুলিপি জমা দিতে হতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব বা চাকরির প্রমাণপত্রসহ নামের সঠিকতা প্রতিষ্ঠা করে এমন অন্যান্য নথিও প্রয়োজন হতে পারে।

বাবা-মায়ের নাম আমূল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের সনদ কিংবা রেজিস্ট্রেশন কার্ড, বাবা-মায়ের এনআইডির সত্যায়িত অনুলিপি এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে। বাবা-মা মারা গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাই-বোনদের এনআইডির অনুলিপিও প্রয়োজন হতে পারে।

জন্মতারিখ সংশোধনে যা লাগবে

এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিদ্যমান নথির ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত হয়। এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জন্মতারিখে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে মূল সনদ প্রদর্শন বা ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এসএসসি বা সমমানের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এনআইডি ইস্যুর আগের তারিখের সার্ভিস বুক, এমপিওর কপি, জন্মনিবন্ধন সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট কিংবা নিকাহনামার মতো নথি চাওয়া হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ প্রতিবেদনসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও জমা দিতে হতে পারে।

ঠিকানা সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

এনআইডিতে স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধনের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ, বিদ্যুৎ, গ্যাস বা টেলিফোন বিল, পৌরকর বা চৌকিদারি করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঠিকানা সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। অন্যদিকে, ভোটার এলাকা পরিবর্তন না করে ঠিকানার বানান বা বাড়ি-সড়কের নম্বর সংশোধনের জন্যও আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের কোনো সদস্যের এনআইডির অনুলিপি এবং ঠিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে।

আবেদনের আগে যা মনে রাখবেন

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা সংশোধনের ধরন ও আবেদনের প্রমাণের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে। জটিল বা বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত শুনানি কিংবা সরেজমিন তদন্তও হতে পারে।

তাই আবেদন করার আগে নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। এতে অসম্পূর্ণ আবেদন, অতিরিক্ত সময় ব্যয় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে