×
ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনার পর এবার মোদি, ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:৪৯:৩৯
হাসিনার পর এবার মোদি, ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা নরেন্দ্র মোদী সরকার বর্তমানে এক কঠিন অস্তিত্বের সংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে নিজের ইমেজ গড়ে তোলার পর, আজ সেই ইমেজের মুখোশ খসে পড়তে শুরু করেছে। ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক অদ্ভুত ‘মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন, যা অনেকটা বাংলাদেশের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের ঘটনার সাথে তুলনীয়।

মোদী সরকার এতদিন বিশ্বাস করত যে, তাদের হাতে থাকা ইডি (ED), সিবিআই (CBI) এবং গোয়েন্দা সংস্থার মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়েই দেশের সব ধরণের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তির অ্যালগরিদম বিশ্ব শাসন করছে, সেখানে তাদের এই প্রথাগত পদ্ধতি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

ভারতের রাজপথে আজ যে তরুণ প্রজন্ম নেমেছে, তারা কেবল আন্দোলনের শ্লোগান দিচ্ছে না, বরং তারা সরকারের ক্ষমতার প্রতিটি স্তম্ভে ফাটল ধরিয়ে দিচ্ছে। তাদের এই গণঅভ্যুত্থান কোনো বিদেশী চক্রান্ত বা সামরিক ক্যু-এর ফল নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘদিনের চাপা পড়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই তরুণরা ভয়হীন, তাদের চোখে নেই কোনো কাল্পনিক শত্রুভয়। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের মতো তারাও বুক পেতে রাজপথে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের শাসকগোষ্ঠীর মনে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

মোদী সরকারের ক্ষমতার উৎস ছিল আম্বানি-আদানির মতো কর্পোরেট লবি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে এই লবিগুলোও ব্যাকফুটে রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্ব এখন ভারতের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বদের পরোক্ষ মন্তব্য ও বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণ মোদীর জন্য রাজনৈতিকভাবে এক অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

ইতিহাস সাক্ষী, যখন কোনো সরকার তার দেশের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে ভয় পায় এবং তাদের দমন করতে লাঠি বা পুলিশি শক্তিকে প্রধান অস্ত্র বানায়, তখন সেই সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মোদী সরকারও এখন সেই একই ফাদে পা দিয়েছে। দিল্লির সাউথ ব্লকের কর্তারা আজ দিশেহারা। তারা বুঝতে পারছেন, প্রথাগত রাজনৈতিক কৌশল বা প্রোপাগান্ডা দিয়ে এই ডিজিটাল যুগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে থামানো সম্ভব নয়।

আজ ভারতের রাজনীতিতে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিবর্তনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তবে এই পরিবর্তন কি ভোটের মাধ্যমে আসবে, নাকি কোনো আকস্মিক গণবিস্ফোরণে—তা সময়ই বলে দেবে। মোদী সরকারের এই ‘পতন’ কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং এটি একটি তথাকথিত ‘বিশ্বগুরু’ ইমেজের চূড়ান্ত বিসর্জন হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে