×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজারের ব্যাংককে বাঁচাতে সাত হাজার কোটি টাকার সহায়তা

২০২৬ অক্টোবর ১৩ ২০:৫৯:০২
শেয়ারবাজারের ব্যাংককে বাঁচাতে সাত হাজার কোটি টাকার সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তারল্যসংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের জমানো আমানতের টাকা ফেরত দিতে ৭ হাজার কোটি টাকার বিপুল আর্থিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। তবে দীর্ঘদিনের সংকটে জর্জরিত ব্যাংকটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, ন্যাশনাল ব্যাংকের তীব্র নগদ অর্থের অভাব ও আমানতকারীদের দুর্দশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সোনালী ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ সরবরাহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শওকত আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমানতকারীদের বকেয়া টাকা ফেরত দেওয়া সুগম করতেই ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়ের এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূলত গ্রাহকদের জমা অর্থ পরিশোধ নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকটির নগদ অর্থের টানাটানি সামাল দিতেই এই উদ্যোগ।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের উপস্থিতিতে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, যেসব গ্রাহক টাকা তুলতে চাইবেন, কোনো অবস্থাতেই তাঁদের খালি হাতে ফেরত পাঠানো যাবে না এবং চাহিদামাফিক পুরো অর্থ দেওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে।

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ব্যাংকের আর্থিক সংকট থাকলেও গ্রাহকদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন থেমে নেই। তাই অজুহাত দিয়ে অর্থ প্রদানে গড়মিশি করার সুযোগ নেই, প্রয়োজনে ধার করে হলেও গ্রাহকের পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে। অতীতে বেশ কিছু ব্যাংকে সুবিধাভোগী বা কর্মকর্তাদের স্বজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের বঞ্চিত করার যে অভিযোগ উঠেছিল, ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বৈষম্য ছাড়াই সব গ্রাহককে টাকা দিতে হবে।

অবশ্য অন্য ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে ব্যাংকিং খাতে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। একটি মূলধন সংকটাক্রান্ত ব্যাংকের জন্য নতুন করে নেওয়া বিশাল ঋণ সময়মতো পরিশোধ করা সহজ কাজ হবে না।

সব বাধা পেরিয়ে গ্রাহকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। সেই লক্ষ্যে গত ১১ অক্টোবর থেকেই ব্যাংকের শাখাগুলোতে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের লিখিত আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে।

গৃহীত পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রাহকেরা শুধু শাখার কাউন্টারই নয়, বরং এটিএম বুথ, মোবাইল অ্যাপস এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং—সব মাধ্যমেই টাকা তুলতে পারবেন। তবে এই বিশাল প্রক্রিয়ায় সব গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ জোগান দেওয়াই হবে ব্যাংকটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাময়িকভাবে অন্য ব্যাংক থেকে ধার করে আমানতকারীদের অর্থ মেটানো গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে টিকতে হলে ন্যাশনাল ব্যাংককে অবশ্যই খেলাপি ঋণ আদায় ও নিজস্ব তহবিলের সংস্থান বাড়াতে হবে। তা না হলে আমানতকারীর চাপ সামলাতে গিয়ে ঋণের বোঝা ও আর্থিক ঝুঁকি আরও প্রকট রূপ নিতে পারে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে