×
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা ঘিরে নতুন তথ্য, তদন্তে উঠে এলো যেসব বিষয়

২০২৬ অক্টোবর ১১ ০৯:০৭:২৪
তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা ঘিরে নতুন তথ্য, তদন্তে উঠে এলো যেসব বিষয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ডের শিকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) কক্সবাজার যাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে ফেসবুকে পরিচিত রাজু চৌধুরী (২০) নামের এক যুবকের সঙ্গে কক্সবাজারে গিয়েছিল সে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। রাজু সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। তাঁদের পরিচয়ের প্রায় ১৭ দিন আগে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তাজমিন ঠিক কোন দিন কক্সবাজারে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায় সে। পরে কুমিল্লায় ফিরে সেখান থেকে কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মাকে জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় হোটেল নূরজাহানের কাছে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাস থেকে নামে তাজমিন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে বাস থেকে নামতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কক্সবাজারের কক্সেস প্যানারেমিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর এজেন্সির কর্মী আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার পর তাজমিন ও রাজু তাঁদের কাউন্টারে বাসের টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তখন তাঁদের একজন ছেলে ও একজন মেয়ে যাত্রী হিসেবে মনে রেখেছিলেন তিনি। আবদুল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজু বুধবারের যাত্রার জন্য একটি টিকিট কাটেন। ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে বাসটি কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

তাজমিন হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর আবদুল্লাহ তাঁকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ বিষয়টি জানতে চাইতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি সতর্ক ছিলেন বলে জানান। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার থেকে তাজমিনের সঙ্গে ফেরা রাজু হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন। পুলিশের তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়ার (৩৫) জড়িত থাকার কথা জানানো হয়েছে।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে ওই বান্ধবীর বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বান্ধবীর নাম ও তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলে তাজমিন কিছু জানায়নি।

মেয়ের বন্ধুবান্ধব ও চলাফেরা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি বলে জানান তিনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়েও খোঁজ রাখতেন। এরপরও মেয়েকে হারানোর বেদনা তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে।

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন তাজমিনকে পড়িয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিন ছিল চঞ্চল স্বভাবের। মা অসুস্থ থাকলে দুই যমজ ছোট ভাইয়ের দেখাশোনাও করত সে। তাজমিনের বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং কাজের কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে রাগ হলে তাজমিন মাঝেমধ্যে হুট করে বেরিয়ে যেত।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাজমিনের মা যে বান্ধবীকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তাঁর বয়স তাজমিনের চেয়ে বেশি। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবী বা তাঁর সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিন হত্যাকাণ্ডে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া জড়িত। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা, নিখোঁজ থাকার সময় এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কারও সঙ্গে পরিচয় বা একসঙ্গে ভ্রমণ করার তথ্য একাই অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে না। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা জরুরি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে