×
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সাক্ষীকে উদ্দেশ করে পলকের মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৫:৩৮:০৭
সাক্ষীকে উদ্দেশ করে পলকের মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানি চলাকালে সাক্ষীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেছেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাইব্যুনাল পলককে কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক করেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।

এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

প্রসিকিউশনের সঙ্গে বাদানুবাদ

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিমের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী একটি বিষয়কে ‘ভূতাপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, “এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে, ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী।”

এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামির এভাবে কথা বলা উচিত নয়। আসামিপক্ষের বক্তব্য থাকলে তা তাঁদের আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে বলেও জানান তিনি। এ নিয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল পলককে উদ্দেশ করে বলেন, “রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।” একই সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আদালতের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। তিনি আরও বলেন, এখানে কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই এবং কোনো বিষয় ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া উচিত নয়।

সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে পলকের মন্তব্য

সাক্ষ্যগ্রহণের আরেক পর্যায়ে বিটিআরসি কর্মকর্তা মাহদী আমিন ২০২৪ সালের ২৮ জুলাইয়ের একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। এতে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের নাম উঠে আসে।

প্রসিকিউশন বিষয়টি মামলার মূল বক্তব্যের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় জানিয়ে তা বাদ দেওয়ার আবেদন জানায়। সাক্ষীও এতে সম্মতি দেন। এ সময় কাঠগড়া থেকে পলক সাক্ষীকে উদ্দেশ করে বলেন, “ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।”

এরপর ট্রাইব্যুনাল পলককে থামিয়ে দিয়ে কথা কম বলার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, প্রসিকিউশনের প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন সেই বক্তব্য বাদ দিতে হলে সাক্ষীকে ‘হোস্টাইল’ বা স্বার্থবিরোধী ঘোষণা করার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলন দমনের ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের ভূমিকা ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই রাতে জয়ের নির্দেশে পলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং এর পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা, মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগও মামলায় আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জনের মৃত্যু এবং রাজধানীর উত্তরায় আরও ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

মামলায় পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন। সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী মনজুর আলম উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে