×
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বাজারে অস্থিরতা কাটছে না, বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৫:২৬:২৯
বাজারে অস্থিরতা কাটছে না, বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইতিবাচক বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে দেশের শেয়ারবাজারে স্বস্তির খবর নেই। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক দরপতনে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের আগ্রহ থাকলেও লোকসানের আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী লেনদেনে সক্রিয় হচ্ছেন না। বরং তাঁরা নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তাঁদের মতে, বাজারের দরপতন ও অস্থিরতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, মুনাফার প্রত্যাশায় বিনিয়োগ করে যদি পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা কীসের আশায় বাজারে অর্থ বিনিয়োগ করবেন? এমন পরিস্থিতিতে বাজারের প্রতি তাঁদের আগ্রহ ও আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) লেনদেনের শুরুতে বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও মধ্যাহ্নের পর থেকেই সূচক টানা নিম্নমুখী হতে থাকে। দিনশেষে প্রধান সূচকসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। তবে সূচকের পতন সত্ত্বেও টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারের এমন পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারছেন না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনের মধ্যেও লেনদেন বেড়েছে। তবে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৪.৫৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৫১.০৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই দিন শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৬.৬৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮০.৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসইর বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২.২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩.৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

রোববার ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৬৪টির কমেছে এবং ৪২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, দরবৃদ্ধির তুলনায় দর হারানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।

লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, এদিন ডিএসইতে মোট ৫৬৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে, এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রোববার ৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এ বাজারে লেনদেন হয়েছিল ১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। ফলে আগের দিনের তুলনায় সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

সিএসইতে এদিন মোট ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টির দর বেড়েছে, ১২৩টির কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৫.৭১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৬৩৫.২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কর্মদিবসে সূচকটি ৫.১৮ পয়েন্ট বেড়েছিল।

সব মিলিয়ে, সপ্তাহের শুরুতে দেশের দুই শেয়ারবাজারেই দরপতনের চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে