×
ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় সিএনজিচালক সুমনকে শনাক্ত

২০২৬ অক্টোবর ০৯ ১৬:১৬:০৪
তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় সিএনজিচালক সুমনকে শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালক সুমনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ ঘটনায় একজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেলেও আটক ব্যক্তি সুমন কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার বাগমারা দক্ষিণের জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। প্রায় এক মাস আগে বসতঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান তিনি। সূত্রটির দাবি, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুমনকে খুঁজে বের করতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বোন, বোনের স্বামী ও খালা শাশুড়িকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা ধানক্ষেতে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়, যা তদন্তের স্বার্থে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকা ধানগাছ দেখা যায়। এসব চিহ্নের প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন।

এদিকে তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচল সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে সিসিটিভি ফুটেজে। ফুটেজ অনুযায়ী, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর সে হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় এবং একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে। এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, রাত সোয়া ১২টার দিকে তাজমিন নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এরপর সে কোন পথে গিয়েছিল বা কীভাবে যাতায়াত করেছিল, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ ও সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি ছাড়ার পর তাজমিন প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। গত ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে যাত্রা করে সে। রাতে পদুয়ার বাজারে পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর তার চলাচলের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। পরদিন ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, বুধবার গভীর রাতে মেয়ের কাছ থেকে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পেয়েছিলেন তিনি। ওই বার্তায় তাজমিন তাঁকে সেখানে গিয়ে নিয়ে আসতে বলেছিল। তবে তখন ঘুমিয়ে থাকায় সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি দেখতে পারেননি। পরে লোকেশন দেখে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থলের কাছে উদ্ধার করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও শার্ট তাজমিনের বলে শনাক্ত করেছেন তাঁর বাবা। এসব আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, তাজমিনের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুরুতে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তা নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

ওসি আরও জানান, সিএনজিচালক সুমন মুঠোফোন ব্যবহার করেন না এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) নেই বলে জানা গেছে। তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে তাজমিনের মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সঙ্গে সুমনের সংশ্লিষ্টতা এবং অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে