×
ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

‘হাসিনার কবর দেওয়ার সাহসও আওয়ামী লীগের নেই’

২০২৬ অক্টোবর ০৯ ১৬:৫৯:১৬
‘হাসিনার কবর দেওয়ার সাহসও আওয়ামী লীগের নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাংলাদেশে ফেরা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনাকে এ দেশের মাটিতে দাফন করার মতো দুঃসাহসও দলটির নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, অসংখ্য ডিসেম্বর পর্যায়ক্রমে আসবে ও চলে যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনার আর কখনো বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ঘটবে না।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মাগুরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রাণ হারানো জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রব্বির কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা ব্যক্ত করেন।

সংবাদকর্মীদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে এবং তারা বস্তুত ভারতের আওয়ামী লীগের একটি শাখায় পরিণত হয়েছিল। দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে আত্মগোপনে গেছে, আর গুটিকয়েক যারা এখনও আস্ফালন করার চেষ্টা করছে, তাদের প্রতিরোধ করতে ছাত্রদলই একাই যথেষ্ট; বিএনপি বা অন্য কোনো সহযোগী সংগঠনের সহায়তার কোনো প্রয়োজন পড়বে না।

আওয়ামী লীগ প্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বৈদেশি চাপের প্রশ্নে বিএনপি নেতার অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকা কিংবা ভারত—কোনো পরাশক্তির কাছে নতিস্বীকার করে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত বাংলাদেশ সরকারকে কোনো রাজনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে বলে তার জানা নেই।

ভারত সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা একজন অবৈধ দখলদার শাসক ছিলেন এবং তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়ে ভারত মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গেই অবিচার করেছে। ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে হলে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের অতিদ্রুত বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে হস্তান্তরের বিকল্প নেই, অন্যথায় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীন।

আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস ও ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত জেনে যেমন পাকিস্তানি বাহিনী দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে মেধা শূন্য করার ষড়যন্ত্র করেছিল, ঠিক একইভাবে গদি হারানোর আশঙ্কায় শেখ হাসিনাও ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সহিংসতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৪ জুলাই মাগুরা জেলা ছাত্রদলের তরুণ নেতা মেহেদী হাসান রব্বি গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) একযোগে তুলাধুনো করে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী বলেন, শেখ হাসিনার পতন ঘটার মাত্র এক মাসের মাথায় আওয়ামী লীগকে ক্ষমা প্রদর্শন করে জামায়াত মারাত্মক মানবতাবিরোধী ভূমিকা পালন করেছে এবং জুলাই বিপ্লবকে পুঁজি করে জাতীয় সংসদের আসন সমঝোতায় মেতেছে। অন্যদিকে, এনসিপি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অবদান রাখলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে তারা দেশজুড়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনি দাবি করেন, এ গোষ্ঠীকে শাসনক্ষমতার অংশ হিসেবে আরও কিছুদিন সুযোগ দেওয়া হলে তারা হয়তো অনিয়মে আওয়ামী লীগকেও ছাড়িয়ে যেত; যার ফলে বর্তমানে এই চক্রটি পুনরায় আওয়ামী লীগের সাথেই গোপন আঁতাতে লিপ্ত হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি শহীদ মেহেদী হাসান রব্বির বাসভবনে যান, স্বজনদের সাথে সাক্ষাত করে পরিবারের সামগ্রিক খোঁজখবর নেন—যে সময় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে