×
ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

তরুণীকে নিয়ে কুয়াকাটায়, পরিবারের খোঁজে বেরিয়ে এলো ভিন্ন পরিচয়

২০২৬ অক্টোবর ০৯ ১৬:৫০:৪৬
তরুণীকে নিয়ে কুয়াকাটায়, পরিবারের খোঁজে বেরিয়ে এলো ভিন্ন পরিচয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তরুণীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে আব্দুল জলিল (২২) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এ দণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে একই দিন কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে মহিপুর থানা পুলিশ তাঁকে আটক করে। দণ্ডপ্রাপ্ত জলিল কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইনসান উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলিল টিকটকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছবি ব্যবহার করতেন। ওই পরিচয়ে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বাগেরহাট এলাকার এক তরুণীর সঙ্গেও একইভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পরে ওই তরুণীকে নিয়ে কুয়াকাটায় আসেন।

বিষয়টি জানতে পেরে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা কুয়াকাটায় গিয়ে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কুয়াকাটার হোটেল মারওয়া থেকে জলিলকে আটক করা হয়।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মনির জানান, সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে জলিল দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। বিষয়টি জানার পর তাঁরা খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন, জলিল তাঁর মেয়েকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাঁদের শনাক্ত করেন। পরে তাঁরা জানতে পারেন, জলিল প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনীর সদস্য নন; তিনি একজন জেলে।

এদিকে জলিলের স্ত্রী তামান্না অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী এর আগেও একাধিক তরুণীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। একবার নারায়ণগঞ্জের এক তরুণীকে কুয়াকাটায় এনে হোটেলে রাখার ঘটনাও তাঁরা জানতে পেরেছিলেন। পরে ওই তরুণীর স্বজনেরা এসে তাঁকে নিয়ে যান। তামান্নার দাবি, পাঁচ বছরের সংসারে তাঁদের দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।

হোটেল মারওয়ার ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে জলিল হোটেলের কর্মীর মাধ্যমে একটি কক্ষ বুকিং নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ এসে জলিলকে আটক করে। তখনই সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদিক জানান, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদের সহযোগিতায় হোটেল মারওয়া থেকে জলিলকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আগেও একই ধরনের আরও দুটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জলিলের স্ত্রীও সাক্ষ্য দিয়েছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় জলিলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে বা এমন ঘটনার তথ্য জানা থাকলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে