×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনা মোদির কাছে, মোদি পালিয়ে যাবেন কার কাছে 

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১০:০৭:০৪
হাসিনা মোদির কাছে, মোদি পালিয়ে যাবেন কার কাছে 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অসন্তোষ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি সরকার। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থানকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলটির নেতারা ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন।

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর হলো ভোটার তালিকা যাচাই ও হালনাগাদের একটি প্রক্রিয়া। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো যোগ্য ভোটার তাঁর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপির অবস্থান বিরোধীদের অভিযোগের বিপরীত। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি, বাদ পড়া নামের সংখ্যা এবং অভিযোগ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এখন রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির জন্তর মন্তরে বড় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির দাবিতে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির অনুমতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দিল্লি প্রশাসনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আন্দোলন ঘিরে প্রায় ২ হাজার ৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করার দাবি করা হয়েছে এবং কংগ্রেসের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা নিশ্চিত বিবরণ পাওয়া না গেলে সেগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

এই আন্দোলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীর নামও আন্দোলনের প্রসঙ্গে উঠে এসেছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের স্লোগান ‘ভোট চোর, গদি ছাড়’ বিরোধী রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হয়ে উঠেছে।

ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ইস্যু কতটা ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে, তা নির্ধারণ করতে নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ বা যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন। একইভাবে, আন্দোলনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা হলেও দুই দেশের রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট এক নয়।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি চাইছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করছে।

এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে আন্দোলনের বিস্তার, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, অভিযোগের যাচাই এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যার ওপর। তবে আন্দোলনের কারণে মোদি সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নিশ্চিত তথ্য এখনো নেই।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে