×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রণোদনা ঋণে নতুন জটিলতা, শর্ত শিথিলের দাবি ব্যবসায়ীদের

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১০:৪৪:০৪
প্রণোদনা ঋণে নতুন জটিলতা, শর্ত শিথিলের দাবি ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে ঘোষিত প্রণোদনা তহবিলের ঋণ দ্রুত ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ঋণ পাওয়ার শর্ত সহজ করা এবং খেলাপিমুক্ত হওয়ার জন্য ২ শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেওয়ার বিধান প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ নিতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক ব্যাংকে ঋণের আবেদন গ্রহণে অনীহা দেখা যাচ্ছে। আবার আবেদন গ্রহণের পরও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা আয়োজন, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং ঋণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগছে বলেও জানান তারা।

এ কারণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পরিচালনা পর্ষদ সভা আয়োজন করে প্রণোদনা ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের চাপ কমিয়ে ঋণ আবেদনের প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এসব কর্মসূচির নীতিমালায় কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক উদ্যোক্তা প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নিতে আগ্রহী হলেও ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার কারণে আবেদন করতে পারছেন না। কোনো কোনো ব্যাংক আবেদন গ্রহণ করতে চাইছে না, আবার কোথাও নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য ব্যাংক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বন্ধ কারখানা চালু এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৬২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে। সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের এই ঋণ দেওয়ার কথা। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে ঘোষণার প্রায় চার মাস পরও ঋণ বিতরণে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য খাতের তহবিল থেকেও ঋণ বিতরণে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

ফলে প্রণোদনা তহবিল থাকলেও ঋণ বিতরণে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তি ও ঋণ ছাড় করা না হলে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি ফেরানোর উদ্যোগটি কার্যকর ফল নাও দিতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে