×
ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সবাইকে কাঁদিয়ে হাসলেন মেসি, বিদায়ী বক্তব্যে বললেন যে কথা

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ০৯:৪৩:১৬
সবাইকে কাঁদিয়ে হাসলেন মেসি, বিদায়ী বক্তব্যে বললেন যে কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির দীর্ঘ ২১ বছরের অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো আবেগঘন এক রাতে। আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচে মাঠে নেমে শুধু জয়ই এনে দেননি, গোল ও অ্যাসিস্টে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটিকেও স্মরণীয় করে রেখেছেন কিংবদন্তি এই ফুটবলার। বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে মেসিকে বিদায় জানিয়েছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে আর্জেন্টিনা। নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজ গোল করেন, আর শেষ গোলটি আসে মেসির পেনাল্টি থেকে। পাশাপাশি দুটি গোলেই সহায়তা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এভাবেই নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল ও দুই অ্যাসিস্ট নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আবেগঘন হয়ে ওঠে খেলা শেষে মেসির বিদায়ী বক্তব্য। মাইক্রোফোন হাতে শুরুতে মুখে হাসি থাকলেও একপর্যায়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথা স্মরণ করেন আর্জেন্টাইন তারকা। এরপর জাতীয় দলের জার্সি পরে দীর্ঘ সময় খেলার সুযোগ পাওয়াকে নিজের জন্য বড় গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার অনুভূতির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা হয় না। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা কঠিন সময় এলেও তিনি ও তার সতীর্থরা কখনো লড়াই থামাননি। জাতীয় দলের জার্সির প্রতি নিজেদের দায়িত্ব ও ভালোবাসা থেকে তারা সবসময় সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

জাতীয় দলের সঙ্গে আর মাঠে ফিরতে না পারার বিষয়টিই মেসির কাছে সবচেয়ে কষ্টের হয়ে উঠেছে। বিদায়ী বক্তব্যে তিনি জানান, সারা জীবন আর্জেন্টিনার হয়ে আবার মাঠে নামতে চাইবেন। কিন্তু বর্তমান সময়টিকেই বিদায়ের জন্য উপযুক্ত মনে করছেন।

সতীর্থদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমাসহ জাতীয় দলের হয়ে অর্জিত সাফল্যের পেছনে সতীর্থদের অবদান স্মরণ করেন তিনি। তার ভাষায়, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে তিনি বীর যোদ্ধাদের মতো সতীর্থদের পাশে পেয়েছেন।

ভক্তদের ভালোবাসার কথাও আলাদা করে তুলে ধরেন মেসি। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে যেখানেই খেলেছেন, স্টেডিয়াম পূর্ণ ছিল এবং অনেক সময় মনে হয়েছে যেন তারা নিজেদের ঘরের মাঠেই খেলছেন। সেই সমর্থন ও পরিবেশ তিনি ভবিষ্যতে সবচেয়ে বেশি মিস করবেন।

বিদায়ী বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মেসি। জাতীয় দলের নতুন প্রজন্মকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে কঠিন সময় আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ জাতীয় দলের ব্যর্থতা দেখতে চাওয়া মানুষও রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

আবেগঘন বক্তব্যের শেষদিকে মেসি স্পষ্ট করে জানান, তিনি এই জায়গা, এই মাঠ এবং সমর্থকদের ছেড়ে যেতে চান না। ভক্তদের ভালোবাসার কথা জানিয়ে নিজেকে আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন।

মেসির শেষ ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও তার দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির কথা জানিয়েছিল। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল আর্জেন্টিনার দর্শকদের সামনে তার শেষ উপস্থিতি।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বিদায় তাই কেবল একটি ম্যাচের সমাপ্তি নয়; এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও সফল এক অধ্যায়ের শেষ দৃশ্য। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ রাতে জয়, গোল, অ্যাসিস্ট আর আবেগ—সব মিলিয়ে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের রাতটি হয়ে থাকল স্মরণীয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর

উ
প
রে