×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ভিসা বন্ধের পর সরকারের সতর্কতা, পাসপোর্ট জমা দিলেই বিপদ!

২০২৬ অক্টোবর ০৬ ০৯:৫৯:৩২
ভিসা বন্ধের পর সরকারের সতর্কতা, পাসপোর্ট জমা দিলেই বিপদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমিক নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমিক শ্রেণির ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। দেশটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এ সময়ে লাওসে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার এবং আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে লাওসে বাংলাদেশি নাগরিকদের শ্রমিক নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট এবং শ্রমিক শ্রেণির ভিসা—এলএ-বি২—ইস্যুসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এই স্থগিতাদেশ চার মাসের জন্য, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে লাওস সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানায়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাওসে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লাওসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও প্রবেশের ওপর স্থগিতাদেশের নির্দিষ্ট কারণ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ লাওসে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। বাংলাদেশে লাওসের নিজস্ব দূতাবাস না থাকায় পাশের দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য লাওসিয়ান টাইমস’ জানিয়েছে, অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার, অননুমোদিত শ্রমিক সরবরাহ এবং বিদেশি শ্রমিক আনার পর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগদাতাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

লাওসের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগদাতা বা শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশ বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে না।

তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে লাওসের নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

লাওসে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কর্মীদের ভুয়া ভিসা ও অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা সময়ে কোনো বাংলাদেশি কর্মী যেন কর্মসংস্থানের আশ্বাসে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট জমা না দেন এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করেন।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, লাওস ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা থাকায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কাগজপত্র ও চাকরির তথ্য আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কর্মী কোথায় যাচ্ছেন, কী কাজ করবেন, কতদিনের জন্য যাচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অস্তিত্ব রয়েছে কি না—এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

লাওস সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশি শ্রমিক আনা বা নিয়োগ করলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আনলে বা নিয়োগ করলে প্রতি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার জরিমানা হতে পারে। অন্য শ্রমিক ইউনিটে নিয়োগের উদ্দেশ্যে শ্রমিক আনলেও একই ধরনের জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া অন্য কোনো শ্রমিক ইউনিটের জন্য নির্ধারিত কর্মীকে কাজে ব্যবহার বা গ্রহণ করলে নিয়োগদাতাকে শ্রমিকপ্রতি ২০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হতে পারে।

অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হতে পারে। একই সঙ্গে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রাখা হয়েছে।

দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট সব খরচ নিয়োগদাতা বা নিয়ম লঙ্ঘনকারী পক্ষকে বহন করতে হবে। একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হতে পারে এবং অতিরিক্ত আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে লাওসে যাওয়া কর্মীদের বড় একটি অংশ নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কাজ করেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশটিতে চীনা বিভিন্ন প্রকল্পেও কিছু বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন।

তবে লাওসে বর্তমানে মোট কত বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মী লাওসে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র নিয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৩৫ জন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশিদের বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রধান গন্তব্যগুলোর মধ্যে লাওস উল্লেখযোগ্য দেশ নয়। দেশটিতে মূলত কিছু চীনা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি কর্মীদের যাতায়াত রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ভুয়া কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে লাওসের নামে চাহিদাপত্র সংগ্রহ করে কর্মী পাঠানোর চেষ্টা করছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর কাগজপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে।

সরকার শুধু লাওস নয়, কম্বোডিয়া এবং অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকিয়ে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর

উ
প
রে