×
ঢাকা, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

অসম নিয়ম নীতিতে ডানা ভাঙছে নন-ব্যাংক আর্থিক খাতের

২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৮:২৫:৫৭
অসম নিয়ম নীতিতে ডানা ভাঙছে নন-ব্যাংক আর্থিক খাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক: একই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংক এবং ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) ক্ষেত্রে অসম নীতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে। শীর্ষ এনবিএফআই নির্বাহীদের মতে, বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চরম ব্যর্থতার পর বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে ভালো ও সুপরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এর ফলে তারা আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ ও খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনে ব্যাংকগুলোর সাথে তীব্র অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

মূল ধারার সংবাদ মাধ্যম ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক বিশেষ গোলটেবিল আলোচনায় এনবিএফআই খাতের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইও এবং বাজার বিশেষজ্ঞরা এসব মতামত তুলে ধরেন।

নিয়ন্ত্রণের অতিরিক্ত চাপ ও আস্থার সংকট

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রাক্তন সিইও মোমিনুল ইসলাম বলেন, "আইনগুলো এখন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন এনবিএফআই খাতের ওড়ার কোনো ডানা বা সুযোগই না থাকে। কয়েকটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে পুরো খাতের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সমস্যার মূল কারণ শুধুই সুশাসনের অভাব নয়, বরং অতিরিক্ত বিধিনিষেধ যা ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবৃদ্ধি আটকে দিচ্ছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংকটকালে ইসলামি ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য সহায়তা দেওয়া হলেও ব্যর্থ এনবিএফআইগুলোর আমানতকারীদের রক্ষায় কোনো সরকারের সাহায্য মেলেনি। ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা এনবিএফআই খাতের ওপর চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমানত সংগ্রহে বৈষম্য ও চড়া তহবিল খরচ

আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ শামস জানান, ব্যাংকগুলো সস্তা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারলেও এনবিএফআইগুলোকে নির্ভর করতে হয় তুলনামূলক চড়া সুদের মেয়াদি আমানতের ওপর। উপরন্তু, সরকারি সংস্থা বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতো উৎস থেকে তাদের আমানত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। তিন মাসের আগে আমানত তোলার সুযোগ না থাকায় তাদের ফান্ডিং কস্ট বা তহবিলের খরচ সবসময়ই বেশি থাকে, যা হোম লোন বা অটো লোনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা কঠিন করে তোলে।

ঋণ পুনর্গঠন ও বন্ড মার্কেটের আইনি জটিলতা

অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের সিইও কান্তি কুমার সাহা জানান, ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়াতে পারলেও এনবিএফআইগুলোর জন্য তা মাত্র ৮ বছরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, যেখানে ভারতে ২ মাসের মধ্যে কোম্পানিগুলো বন্ড ইস্যু করে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহ করতে পারে, সেখানে বাংলাদেশে নানা অনুমোদন পেতে ২ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ফলে বন্ড মার্কেট থেকে অর্থ সংগ্রহের হার এনবিএফআই খাতের মোট তহবিলের ১ শতাংশেরও কম।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ সাদ বিন শামস বলেন, করোনাকালের সাময়িক নীতিগত ছাড়ের কারণে খেলাপি ঋণ গোপন ছিল, যা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করায় এনবিএফআই খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

ভবিষ্যতের পথ ও প্রতিকার

আলোচকরা একমত হন যে, ব্যাংক এবং ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান একে অপরের পরিপূরক হতে পারে, যদি একটি সমান্তরাল প্রতিযোগিতার পরিবেশ (Level Playing Field) তৈরি করা হয়। তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দৈনন্দিন পরিচালনগত বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করে স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন, নিরীক্ষক (Auditor) ও ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর তাগিদ জানান।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে