×
ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অবশেষে মুখ খুললেন প্রধান

২০২৬ অক্টোবর ০৪ ০৯:৫১:৪১
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, অবশেষে মুখ খুললেন প্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট মাইকেল কটলিকফ। ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে মোকাবিলা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং এ ক্ষেত্রে আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে।

৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রায় আট মিনিটের ভিডিও বক্তব্যে কটলিকফ বলেন, ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘদিন থাকবে। একই সঙ্গে যৌন নিপীড়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং পার্টিতে মদ ও মাদক ব্যবহারের সংস্কৃতি নিয়ে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান স্বীকার করেন, ঘটনাটি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সব প্রশ্নের উত্তর নেই। এ কারণে বিষয়টি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার ঘোষণা দেবে বলে জানান তিনি।

এই পর্যালোচনায় বাইরের একটি আইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে মোকাবিলা করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং কোথায় ঘাটতি ছিল, সেটিও পর্যালোচনার আওতায় আসবে।

এদিকে অভিযোগের ফৌজদারি তদন্তের দায়িত্ব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয়ের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন কটলিকফ। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলের এ সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত নিউইয়র্কের আইন পরিবর্তনের উদ্যোগকেও সমর্থন করেছেন কর্নেল প্রধান। তাঁর বক্তব্য, আইন ও নীতিমালার সীমার মধ্যে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও স্পষ্টভাবে জানানো হবে—কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, কেন নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো ক্ষেত্রে কী ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ওই শিক্ষার্থী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এর আগে একই বছরের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একটি ভ্রাতৃসংঘের অনুষ্ঠানে তাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছিল।

অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীর লিখিত বক্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠায়। পরবর্তী সময়ে আরও কিছু প্রমাণ ও সাক্ষাৎকারের তথ্য নিয়ে পুলিশ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও অভিযোগের বিষয়ে ফৌজদারি মামলা না করার সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হয়েছিল বলে সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সরকারি জজ ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন আগে অভিযোগে মামলা না করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে ২ অক্টোবর তিনি বলেন, ঘটনার পুরো চিত্র হয়তো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি।

ঘটনার পর কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভ্রাতৃসংঘের কার্যক্রমও নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কটলিকফ বলেন, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের মতামত নিয়ে ভ্রাতৃসংঘগুলোর ইতিবাচক দিকগুলো কীভাবে বজায় রাখা যায়, একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা দেখা হবে।

সমালোচনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহান্তে সামাজিক ভ্রাতৃসংঘগুলোর সব অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। একই সঙ্গে ৫ অক্টোবর কয়েকটি শিক্ষার্থী সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ ও সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মাদক ব্যবহারের বিষয়ে বিদ্যমান কর্মসূচিগুলো আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছে।

কটলিকফ বলেন, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সূচনা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের নিজেদের মধ্য থেকেই হতে হবে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে