×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুনাফা ও নগদ প্রবাহে জোরালো প্রবৃদ্ধি, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির প্রত্যাশা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১০:৪৮:৪৯
মুনাফা ও নগদ প্রবাহে জোরালো প্রবৃদ্ধি, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি ফাইন ফুডস লিমিটেডের আর্থিক পারফরম্যান্সে চলতি অর্থবছরে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। মাত্র ৯ মাসেই কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৭৮ পয়সায়, যা আগের অর্থবছরের পুরো বছরের ইপিএস৪ টাকা ১৮ পয়সার চেয়েও অনেক বেশি। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) এবং শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ফাইন ফুডসের ইপিএস ছিল ৬২ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৫৭ পয়সা। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকেই ইপিএস প্রায় ৪ গুণ হয়েছে।

শুধু মুনাফা নয়, একই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকেও নগদ প্রবাহের উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ছিল ১৯ পয়সা, যা ২০২৬ সালের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬১ পয়সায়।

প্রথম প্রান্তিক শেষে শেয়ারপ্রতি এনএভি হয়েছে ১৭ টাকা ২২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ১১ টাকা ৯৩ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকেও অব্যাহত ছিল প্রবৃদ্ধি

২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও ফাইন ফুডসের আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫৯ পয়সা, যেখানে ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ১৯ পয়সা।

আর জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ অর্থাৎ ছয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ১৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই ইপিএস ছিল ১ টাকা ৮১ পয়সা।

অর্থাৎ ছয় মাসে ইপিএস প্রায় তিনগুণ হয়েছে। একই সময়ে এনওসিএফপিএস বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা, যা আগের বছরের ৬৬ পয়সার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি।

ছয় মাস শেষে কোম্পানিটির এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৫৫ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে এই এনএভি ছিল ১৪ টাকা ৬৫ পয়সা।

৯ মাসে পিএস ৭ টাকা ৭৮ পয়সা

ফাইন ফুডসের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আর্থিক ফলাফল। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬২ পয়সা, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৩১ পয়সা।

আর জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬—এই ৯ মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৭৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই ইপিএস ছিল ৪ টাকা ১২ পয়সা।

হিসাব অনুযায়ী, ৯ মাসে ইপিএস বেড়েছে ৩ টাকা ৬৬ পয়সা বা প্রায় ৮৯ শতাংশ। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মাত্র ৯ মাসেই কোম্পানিটি আগের অর্থবছরের পুরো বছরের ৪ টাকা ১৮ পয়সা ইপিএস অতিক্রম করেছে। ২০২৫ সালের পুরো বছরের ইপিএস ৪ টাকা ১৮ পয়সা এবং এনএভি ছিল ১৪ টাকা ৬৫ পয়সা—এ তথ্য চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কোম্পানি-তথ্যেও রয়েছে।

নয় মাসে এনওসিএফপিএস-ও শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই-মার্চ সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ১ টাকা ৫৯ পয়সা। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

অন্যদিকে ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে এনএভি দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৭ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুনে যা ছিল ১৪ টাকা ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৬ টাকা ৫৯ পয়সা।

বিক্রি বাড়ায় ইপিএস বেড়েছে

কোম্পানির পক্ষ থেকেও ইপিএস বৃদ্ধির কারণ হিসেবে মোট বিক্রয় রাজস্ব বৃদ্ধির কথা জানানো হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন পোলট্রি ফার্ম এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য কৃষি ও খাদ্য-সম্পর্কিত ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

অর্থাৎ বিদ্যমান ব্যবসার বিক্রয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে কোম্পানির ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ডিভিডেন্ড কি ১৪ শতাংশের চেয়ে বাড়বে?

ফাইন ফুডস ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং স্পনসর ও পরিচালকদের জন্য ৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নগদ ডিভিডেন্ড ছিল ১০ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ডিভিডেন্ড ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশ হয়েছিল।

এখন ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের ফলাফল নতুন করে ডিভিডেন্ড বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে পারে। কারণ ২০২৫ সালের পুরো বছরের ৪ টাকা ১৮ পয়সার বিপরীতে ২০২৬ সালের নয় মাসেই ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৭৮ পয়সা।

তবে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে ২০২৬ সালের ডিভিডেন্ড ১৪ শতাংশের চেয়ে বাড়বে। ডিভিডেন্ড নির্ধারণ শুধু ইপিএস-এর ওপর নির্ভর করে না; কোম্পানির চূড়ান্ত মুনাফা, নগদ অবস্থান, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং বার্ষিক অডিটেড হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।

তবে আর্থিক ফলাফলের বর্তমান প্রবণতা বলছে, ২০২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত ফল ৯ মাসের পারফরম্যান্সের কাছাকাছি থাকলে ডিভিডেন্ড সক্ষমতার ভিত্তি আগের বছরের তুলনায় শক্তিশালী হতে পারে।

বিনিয়োগের জন্য কতটা অনুকূল?

ফাইন ফুডসের বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদনকে বিনিয়োগ বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে দেখলে কয়েকটি ইতিবাচক দিক স্পষ্ট। প্রথমত, ইপিএস ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, ৯ মাসে ইপিএস আগের পুরো বছরের ইপিএস ছাড়িয়ে গেছে। তৃতীয়ত, এনওসিএফপিএস ১ টাকা ৫৯ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠেছে। চতুর্থত, এনএভি ১৪ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বেড়ে ২১ টাকা ১৭ পয়সায় পৌঁছেছে।

কোম্পানির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনেও ২০২৪ সালের ১০ শতাংশের পর ২০২৫ সালে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪ শতাংশ ক্যাশডিভিডেন্ড ঘোষণার তথ্য রয়েছে।

তবে এসব ইতিবাচক সূচককে একাই শেয়ারটি কেনার সুপারিশ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে বর্তমান বাজারদর, P/E, dividend yield, কোম্পানির ভবিষ্যৎ মুনাফার স্থায়িত্ব, নগদ প্রবাহ, ব্যবসা সম্প্রসারণের বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিগুলোও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ২০২৬ অর্থবছরের পূর্ণ বছরের অডিটেড ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নয় মাসের প্রবৃদ্ধিকে চূড়ান্ত ফল হিসেবে ধরা যাবে না।

সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭ অক্টোবর

ফাইন ফুডসের আর্থিক পারফরম্যান্সের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে ৭ অক্টোবর ২০২৬। ওইদিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণাসহ অন্যান্য ঘোষণা করা হবে।

ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মূলত দুই দিকে—একদিকে নয় মাসের শক্তিশালী আয় ও নগদ প্রবাহের ধারা চূড়ান্ত বার্ষিক ফলে কতটা বজায় থাকে, অন্যদিকে সেই ফলাফলের ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ ২০২৬ সালের জন্য কী ধরনের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ফাইন ফুডসের জন্য গত বছরের তুলনায় মুনাফা, নগদ প্রবাহ ও সম্পদমূল্যের দিক থেকে একটি শক্তিশালী উন্নতির চিত্র তুলে ধরছে। তবে চূড়ান্ত বিনিয়োগ মূল্যায়নের জন্য ৭ অক্টোবরের অডিটেড ফল, সম্ভাব্য ডিভিডেন্ড এবং একই সময়ের বাজারদর—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে