×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়াবার নামে যা খাওয়ানো হচ্ছে মাদকসেবীদের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১১:১৮:৪৩
ইয়াবার নামে যা খাওয়ানো হচ্ছে মাদকসেবীদের, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইয়াবার নামে কম দামের বিভিন্ন ওষুধ রঙ করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীতে। স্থানীয়দের দাবি, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধের ওপর লাল বা গোলাপি রঙের প্রলেপ দিয়ে সেগুলোকে ইয়াবার আদলে তৈরি করে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করছে একটি চক্র। এতে একদিকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা, অন্যদিকে অজানা ওষুধ সেবনের কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

রাজশাহীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচা হয় এবং মাদকসেবীদের আনাগোনাও দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোট ঢালান, গুড়িপাড়া, রাজশাহী নিউমার্কেট ও হরিপুরসহ আরও কয়েকটি এলাকায়ও মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব এলাকায় প্রকৃত মাদকের পাশাপাশি ইয়াবার আদলে তৈরি বিভিন্ন ওষুধও বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এক টাকার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধকে ইয়াবার মতো দেখাতে লাল বা গোলাপি রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্যাবলেটের গায়ে মার্কার বা সাইনপেনের কালি লাগিয়ে সেগুলোকে ইয়াবার আদলে তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে প্রকৃত ইয়াবা হিসেবে এসব ট্যাবলেট মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

কম দামে ইয়াবা পাওয়ার আশায় কিছু মাদকসেবী এসব চক্রের কাছে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে প্রকৃত মাদকের পাশাপাশি অজ্ঞাত উপাদানের ওষুধও সেবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা হলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবী জানান, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় অনেক বিক্রেতা এখন ইয়াবার পরিবর্তে অন্য কিছু বিক্রি করছে। তিনি দাবি করেন, একবার দুই পিস ‘মাল’ হিসেবে কিনে পরে সেগুলো ওষুধ বলে বুঝতে পারেন। ওষুধ সেবনের পর তার শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় বিষয়টি বুঝতে পারেন বলে জানান তিনি।

আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, কিছু ট্যাবলেট রং করে ইয়াবার মতো তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এসব ট্যাবলেটকে ‘মায়া বড়ি’ বলে ডাকা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তবে ইয়াবার আদলে মায়া বড়ি ও ডুরালাক্স বিক্রির বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি জানান, ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে মহানগর পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাদক বিক্রির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজশাহীতে ইয়াবার নামে ভিন্ন ধরনের ওষুধ বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসায় এসব ট্যাবলেটের উৎস, বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত এবং প্রকৃতপক্ষে সেগুলো কী—তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে