×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদে আসছে দ্বিতীয় কক্ষ: আশার জায়গা যেখানে 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১০:৪৭:২৩
সংসদে আসছে দ্বিতীয় কক্ষ: আশার জায়গা যেখানে 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষ বা আপার হাউস চালুর প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট। তবে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে দুই কক্ষের আইনসভা—নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ—গঠনের ধারণা সামনে এসেছে। এর উদ্দেশ্য হিসেবে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য, পর্যালোচনা এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে ৪০০ সদস্যের নিম্নকক্ষ এবং ১০৫ সদস্যের উচ্চকক্ষ নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাওয়া মোট ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হওয়ার কথা। বাকি পাঁচজনকে রাষ্ট্রপতি এমন নাগরিকদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দিতে পারবেন, যারা কোনো রাজনৈতিক দল বা আইনসভার সদস্য নন।

অন্যদিকে পরবর্তী সংস্কার-আলোচনায় ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের আরেকটি কাঠামোর কথাও এসেছে। সরকারি সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, উচ্চকক্ষের আসনগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে বণ্টন করা হতে পারে এবং প্রতিটি দলের পাওয়া আসনের একটি অংশ দলীয় সদস্যদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, শ্রমিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে বাছাই করার প্রস্তাব রয়েছে।

উচ্চকক্ষ চালু হলে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসবে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নকক্ষে পাস হওয়া অর্থবিল ছাড়া অন্যান্য বিল উচ্চকক্ষে পর্যালোচনার জন্য যেতে পারে। উচ্চকক্ষ কোনো বিল অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান অথবা সংশোধনের সুপারিশসহ নিম্নকক্ষে ফেরত পাঠাতে পারবে। একই সঙ্গে উচ্চকক্ষ যাতে অনির্দিষ্ট সময় ধরে কোনো আইন আটকে রাখতে না পারে, সে বিষয়েও সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।

এর ফলে একটি বিল আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার আগে দ্বিতীয় একটি কক্ষে তা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে। সমর্থকদের যুক্তি হলো, এতে আইন প্রণয়নের সময় বিভিন্ন দিক আরও গভীরভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে এবং তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে। তবে উচ্চকক্ষের ক্ষমতা কতটুকু হবে এবং নিম্নকক্ষের সঙ্গে এর সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারিত হবে—এগুলোই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন।

উচ্চকক্ষের সদস্য বাছাই নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। যদি রাজনৈতিক দলের ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন করা হয়, তাহলে দলগুলোর প্রভাব থাকবে। আবার নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী বা বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গেলে তাদের নির্বাচন বা মনোনয়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। এ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এদিকে উচ্চকক্ষ গঠন কেবল সংসদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর পরিবর্তন নয়; এর জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সরকারি নথিতেও উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনাতেও উচ্চকক্ষের কাঠামো নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের ধারণার প্রতি সমর্থনের কথা জানালেও উচ্চকক্ষকে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তির কথা বলেছেন।

ফলে বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ চালু হলে সেটি শুধু আরও ১০০ বা ১০৫ জন সদস্য যোগ করার বিষয় হবে না। সদস্য নির্বাচন বা মনোনয়ন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, নিম্নকক্ষের সঙ্গে সমন্বয়, বিল পর্যালোচনার পদ্ধতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনে স্পষ্ট করতে হবে। শেষ পর্যন্ত উচ্চকক্ষের কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর কাঠামো ও সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক করা যায় তার ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে