×
ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্ড সুবিধা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, চার প্রতিষ্ঠানে ৯৮ কোটি টাকার হিসাব

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১১:৫৪:৪৬
বন্ড সুবিধা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, চার প্রতিষ্ঠানে ৯৮ কোটি টাকার হিসাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য দেওয়া শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ শাখা। বন্ডেড ওয়্যারহাউসে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি করা পণ্যের ব্যবহার, মজুত ও হিসাবের তথ্য যাচাইয়ের সময় এসব অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাঁচামাল নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার না করা, নির্ধারিত সময়ে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি না করা, প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টারে হিসাবের অসঙ্গতি এবং শুল্ক-কর পরিশোধে অনিয়ম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও তদন্তের ভিত্তিতে এসব বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বন্ড সুবিধার আওতায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশ থেকে নির্দিষ্ট কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারে। আমদানি করা এসব কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে রপ্তানি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি উৎসাহিত করতেই সরকার এ সুবিধা দিয়ে থাকে।

ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। গত মাসেও বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের অভিযোগে কয়েক শ প্রতিষ্ঠানের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। অভিযানের সময় কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত গুদামে আমদানি করা কাপড় পাওয়া যায়নি। আমদানি করা কাপড়ের একটি অংশ বেআইনিভাবে গুদাম থেকে সরিয়ে নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

তদন্তে রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া চার প্রতিষ্ঠান হলো—ইনটিগ্রা অ্যাপারেলস লিমিটেড, ভ্যালমন্ট ফ্যাশন লিমিটেড, বিএসপি ইন্ডাস্ট্রি (বিডি) প্রাইভেট লিমিটেড এবং ট্রাউজার ল্যান্ড বিডি লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ শাখা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, প্রতিষ্ঠানের মজুত ও হিসাবের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান ও তদারকির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত আরও প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়ম মেনে পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করা প্রয়োজন। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাজস্ব সুরক্ষার বিষয়গুলো সমন্বয় করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।

কাস্টম বন্ড কমিশনারেটের ঢাকা (উত্তর) প্রিভেন্টিভের যুগ্ম কমিশনার বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি কার্যক্রম উৎসাহিত করার জন্যই মূলত বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। কেউ যাতে এই সুবিধার অপব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকি দিতে না পারে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে একদিকে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রকৃত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও এ সুবিধা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবে। এ কারণে আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার, মজুত, হিসাব ও রপ্তানি কার্যক্রমে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে