×
ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুযোগ পেয়েই ভারতের ৪০ বছরের স্বপ্নে আঘাত বাংলাদেশের 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১১:১২:৫২
সুযোগ পেয়েই ভারতের ৪০ বছরের স্বপ্নে আঘাত বাংলাদেশের 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার দেশগুলোর স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে কেন্দ্র করে এক উত্তপ্ত কূটনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান অধিবেশনে আফ্রিকা মহাদেশের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, "একবিংশ শতাব্দীতে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন না থাকা চরম অন্যায়। এটি মেনে নেওয়া যায় না, এই অবস্থা বদলানো জরুরি।" তার এই বক্তব্যের পর ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার কৌশলগত পরিকল্পনা এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ইউরোপের ভিশন গ্র্যাড (V4) বা হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এই অধিবেশনেও ভারত তাদের সেই মিত্রদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক সম্পন্ন করে এবং ভারতের দাবির পক্ষে তাদের আনুষ্ঠানিক সমর্থন নিশ্চিত করে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও তার প্রতিনিধি দল বিষয়টিকে নিজেদের সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে দেখছিলেন।

ভারতের এই কৌশলী কূটনীতির জবাবে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান অত্যন্ত নিপুণভাবে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেন। তিনি ভারতের দাবির প্রত্যক্ষ বিরোধিতা না করলেও তার বক্তব্যের ফোকাস সম্পূর্ণ আফ্রিকা মহাদেশের দিকে সরিয়ে নেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের একটি বিশাল অংশ আফ্রিকা মহাদেশে কাজ করে, তাই তাদের ভোটাধিকার ও স্থায়ী আসন পাওয়াটা কোনো করুণা নয়, বরং ন্যায়বিচারের অংশ। তার এই বক্তব্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভারতের প্রতি দেওয়া সমর্থন কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. খলিলুর রহমান ভারতকে এক দারুণ কূটনৈতিক 'ফাদে' ফেলেছেন। ভারত এখন এমন এক নৈতিক সংকটে পড়েছে যে, তারা আফ্রিকার এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করতে পারছে না, আবার সমর্থন করলেও নিজেদের স্থায়ী আসন পাওয়ার পথ দীর্ঘায়িত হতে পারে। ভারতের এই 'হাঁচট' বা কূটনীতির এই পরাজয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধরে ভারত বাংলাদেশকে তাদের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি 'ক্লায়েন্ট স্টেট' বা অনুগত দেশ হিসেবে ভেবে আসছিল। কিন্তু জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের এই সাহসী ও স্বাধীন অবস্থান প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশ আর কারও দাবার বোর্ডের কোনো সাধারণ ঘুঁটি নয়, বরং এখন বাংলাদেশ নিজেই ভূ-রাজনীতির টেবিলে এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ভারতের জন্য এই কূটনৈতিক পরাজয় বা 'চেকমেট' আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মর্যাদা ও প্রভাব বৃদ্ধির এক বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে