×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রত্যর্পণ চুক্তি থেকে পাসপোর্ট; হাসিনার দেশে ফেরায় যত জটিলতা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ০৯:৫১:২০
প্রত্যর্পণ চুক্তি থেকে পাসপোর্ট; হাসিনার দেশে ফেরায় যত জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আবারও রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনা এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হতে চান। তবে বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম রয়েছে। ফলে তাঁর দেশে ফেরা কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ভ্রমণ নথি, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের চলমান মামলার বিষয়ও জড়িত।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। ফলে বৈধ পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, তাঁকে ভ্রমণ অনুমতিপত্র বা দুই দেশের মধ্যে বিশেষ কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিরতে হতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর বলেছেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াতেই তাঁকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে।

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের আইনি মর্যাদাও পুরোপুরি প্রকাশ্যে পরিষ্কার নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি দেশটির প্রচলিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ওই চুক্তির আওতায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। তবে প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে। ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বলা হয়েছে, আবেদনটি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রযোজ্য আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও বিভিন্ন পর্যায়ে জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটিকে জানানো হয়, ভারতকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আইনি কার্যক্রম কীভাবে এগোবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। আইনমন্ত্রী এর আগে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের তথ্য উপদেষ্টাও বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং দলকে পুনর্গঠনের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে বর্তমান আইনি ও রাজনৈতিক বিধিনিষেধের কারণে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

শেখ হাসিনা নিজেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার বা আইনি পরিণতির ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বাস্তবে কখন এবং কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পাসপোর্টের বিষয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশে চলমান বিচারিক কার্যক্রম—সবগুলো বিষয়ই এতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে আপাতত একটি চলমান আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তিনি নিজে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বাস্তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইন, দুই দেশের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর। বর্তমানে ভারত বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ পর্যালোচনা করছে—তাই তাঁর দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময় বা পদ্ধতি এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে