×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জিপিএফে নতুন মুনাফার হার ঘোষণা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১১:১৫:৩৭
সরকারি চাকরিজীবীদের জিপিএফে নতুন মুনাফার হার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফে (General Provident Fund) জমা অর্থের ওপর চলতি অর্থবছরেও সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জমা অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী তিনটি স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ গত ২১ সেপ্টেম্বর চলতি অর্থবছরের জন্য জিপিএফের মুনাফার হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন হার অনুযায়ী, গত অর্থবছরের মতো এবারও নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত জমা অর্থে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জিপিএফের প্রারম্ভিক স্থিতি অথবা চলতি অর্থবছরে জমা করা চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মুনাফার হার হবে ১৩ শতাংশ। আর জমার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১২ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, জিপিএফে জমা অর্থের পরিমাণ ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, জমার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযোজ্য মুনাফার হার ধাপে ধাপে কমবে।

সরকারি চাকরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের নির্দিষ্ট অংশ জিপিএফে জমা রাখতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ জিপিএফে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ফলে একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী চাইলে নিজের আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী মূল বেতনের নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থ জিপিএফে জমা রাখতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে এই সঞ্চয়ের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত হারে মুনাফা যোগ হয়।

জিপিএফের পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান ও চাকরির ক্ষেত্রে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা সিপিএফ চালু রয়েছে। জিপিএফের আওতাভুক্ত সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে যেসব প্রতিষ্ঠানে সিপিএফ ব্যবস্থা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে।

সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সাধারণত মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা জমা দিতে পারেন। এ ব্যবস্থায় কর্মীর নিজস্ব জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকেও নির্ধারিত অংশ জমা দেওয়া হয়।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সিপিএফের ক্ষেত্রে মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ প্রদান করে থাকে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিপিএফ ও সিপিএফ ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো, কর্মীর জমা অর্থের ওপর নির্ধারিত হারে মুনাফা যোগ হয় এবং সেই অর্থের ওপর পরবর্তী সময়ে আবার মুনাফা হিসাব করা হয়। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ জমা থাকলে চক্রবৃদ্ধি হারে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে বা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কর্মী তার নিজস্ব জমা, প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার নির্ধারিত অংশ এবং অর্জিত মুনাফাসহ অর্থ পাওয়ার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গঠিত ভবিষ্যৎ তহবিলকে সাধারণত জিপিএফ বলা হয়। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান বা চাকরিতে প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেখানে কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সিপিএফসহ বিভিন্ন ধরনের ভবিষ্যৎ তহবিল চালু রয়েছে।

এই ব্যবস্থায় কর্মীরা চাকরির সময় নিয়মিতভাবে মূল বেতন থেকে নির্দিষ্ট অংশ জমা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ প্রদান করে। চাকরি শেষে বা সংশ্লিষ্ট বিধিতে নির্ধারিত সময়ে কর্মী জমাকৃত অর্থ ও মুনাফা একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ পান।

সাধারণত বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সিপিএফ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে চাঁদার পরিমাণ, নিয়োগকর্তার অবদান এবং মুনাফা নির্ধারণের নিয়ম আলাদা হতে পারে।

চলতি অর্থবছরে জিপিএফে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফার হার বহাল রাখায় সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে জমার পরিমাণ অনুযায়ী ১৩, ১২ ও ১১ শতাংশ—এই তিনটি হারের মধ্যে কোনটি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারিত হবে জিপিএফের প্রারম্ভিক স্থিতি বা সংশ্লিষ্ট হিসাবের পরিমাণের ভিত্তিতে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে