×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানির ৬১ কোটি টাকার বিশাল অগ্রিম, যা বলল অডিটর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২২ ১৯:৪৫:২৬
তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানির ৬১ কোটি টাকার বিশাল অগ্রিম, যা বলল অডিটর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেডের তথ্য-প্রমাণের ঘাটতির কারণে সরবরাহকারী ও অন্যান্য পক্ষকে দেওয়া ৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকার অগ্রিম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কোম্পানিটির নিরীক্ষক। অগ্রিমের প্রকৃতি, শর্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত নিরীক্ষা-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ‘অ্যাডভান্স টু সাপ্লায়ার্স অ্যান্ড আদার্স’ নামে এই অর্থ দেখানো হয়েছে। এক বছর আগে একই খাতে ছিল ৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অগ্রিমের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

কোম্পানিটির নিরীক্ষক কেএম হাসান অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের অংশীদার হেদায়েত উল্লাহ এ বিষয়ে ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অগ্রিমের প্রকৃতি, বিষয়বস্তু, শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত নিরীক্ষা-প্রমাণ কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো অঙ্কে কোনো সমন্বয় প্রয়োজন কি না কিংবা অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা দরকার কি না, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

তবে নিরীক্ষকের এই আপত্তির অর্থ এই নয় যে ৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকার অগ্রিমের অঙ্কটি ভুল বা তা আদায়যোগ্য নয়। বরং পর্যাপ্ত ও যথাযথ প্রমাণ না থাকায় নিরীক্ষক স্বাধীনভাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি।

কোম্পানিটির মোট চলতি অগ্রিম, আমানত ও প্রিপেমেন্টের পরিমাণ ২০২৫ সালের জুন শেষে ছিল ৭৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই ছিল সরবরাহকারী ও অন্যান্য পক্ষকে দেওয়া অগ্রিম।

এ ছাড়া কোম্পানিটির অগ্রিম আয়কর ছিল ১৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, অগ্রিম অফিস ভাড়া ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং ব্যাংক গ্যারান্টি মার্জিন ও টেন্ডার সিকিউরিটি বাবদ ছিল ৮৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

এদিকে, কোম্পানিটির মালিকানাধীন একটি ডেটা সেন্টার নিয়েও নিরীক্ষক পৃথক আপত্তি জানিয়েছেন। আমরার হোল্ডিংস লিমিটেডের কাছ থেকে কোনো মূল্য পরিশোধ ছাড়াই ডেটা সেন্টারটি পুনরায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমরার নেটওয়ার্কসের। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী অর্থবছরে এটি পুনরায় নেওয়ার কথা রয়েছে।

এ কারণে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ডেটা সেন্টারটিকে সম্পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেনি কোম্পানিটি। তবে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, ডেটা সেন্টারটির বর্তমান অবস্থা, ন্যায্য মূল্য এবং ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে—এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত নিরীক্ষা-প্রমাণ দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি হালনাগাদ স্থায়ী সম্পদ নিবন্ধনও সরবরাহ করা হয়নি।

ফলে ডেটা সেন্টারটির বিষয়ে চলতি বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে কোনো সমন্বয় প্রয়োজন কি না, সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

তবে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে, আর্থিক প্রতিবেদনের নোট ৯.২-এ উল্লেখ করা সব অগ্রিম, আমানত ও প্রিপেমেন্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং সেগুলো সুরক্ষিত।

আমরা নেটওয়ার্কস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএসপি, আইওটি, আইটি ও আইটিইএস সেবা দিয়ে আসছে। ২০১৭ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ স্পন্সর ও পরিচালকদের কাছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৫ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আমরার নেটওয়ার্কসের শেয়ারের দর অপরিবর্তিত থেকে ১৮ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে