×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়েও ভালো হচ্ছেন না, জানুন আসল কারণ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১০:৩০:৫২
গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়েও ভালো হচ্ছেন না, জানুন আসল কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা অনেকেরই নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওষুধ খাওয়ার পর সাময়িক স্বস্তি মিললেও কিছু ক্ষেত্রে আবার বুকজ্বালা, টক ঢেকুর বা পেটের অস্বস্তি ফিরে আসে। এমন হলে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

পাকস্থলীতে খাবার হজমের জন্য অ্যাসিড তৈরি হয়। খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর মাঝখানে থাকা লোয়ার ইসোফেজিয়াল স্ফিংটার (LES) নামের পেশি সাধারণত অ্যাসিডকে ওপরে উঠে আসতে বাধা দেয়। এই নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে গিয়ে বুকজ্বালা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

অনেকে ওমিপ্রাজল বা অ্যান্টাসিডের মতো ওষুধ খেয়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে উপসর্গ বারবার ফিরে এলে এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। যেমন—গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD), পাকস্থলীর আলসার, H. pylori সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যা।

জীবনযাপনে যেসব পরিবর্তন কাজে আসতে পারে:

একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে যেসব খাবারে আপনার উপসর্গ বাড়ে।

রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন।

খাবার ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খান।

চা, কফি বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবারে সমস্যা বাড়লে সেগুলো কমিয়ে দিন।

অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।

ধূমপান করলে তা বন্ধ করার চেষ্টা করুন।

রাতে রিফ্লাক্স বেশি হলে বিছানার মাথার দিক কিছুটা উঁচু করা উপকারী হতে পারে।

চুইংগাম কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লালা বাড়িয়ে রিফ্লাক্সের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি সবার জন্য প্রয়োজনীয় বা কার্যকর নয়।

অ্যাসিডিটির সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে বা বারবার ফিরে এলে নিজে থেকে দীর্ঘদিন ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক H. pylori পরীক্ষা, এন্ডোস্কোপি বা অন্য পরীক্ষা করতে পারেন।

বিশেষ করে খাবার গিলতে সমস্যা, বারবার বমি, রক্তবমি, কালো পায়খানা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা তীব্র/নতুন ধরনের বুকব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

PPI জাতীয় ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। নিজের ইচ্ছায় ওষুধ দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া বা হঠাৎ বন্ধ করার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করাই নিরাপদ।

মনে রাখতে হবে, ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে সব উপসর্গকে একই সমস্যার অংশ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ওষুধে বারবার সাময়িক আরাম মিললেও সমস্যা ফিরে এলে মূল কারণ শনাক্ত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

কেএইচ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে