×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সার কারখানায় স্টার্ট-আপ শুরু, উৎপাদন নিয়ে বড় সুখবর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:০২:১০
সার কারখানায় স্টার্ট-আপ শুরু, উৎপাদন নিয়ে বড় সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্যাস সংকটে টানা সাত মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে কারখানাটিতে স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সব ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কারখানাটিতে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হতে পারে।

যমুনা সার কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুর ১২টা থেকে স্টার্ট-আপ কার্যক্রম সফলভাবে চলছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে।

১৯৯০ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানা স্থাপন করা হয়। পরের বছর, ১৯৯১ সাল থেকে কারখানাটিতে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ১ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া।

যমুনা সার কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়া সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ মোট ২১টি জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলার এ কারখানা থেকে সার সংগ্রহ করেন। ফলে দীর্ঘদিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সার সরবরাহের ওপরও প্রভাব পড়েছে।

গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম দফায় কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২২ মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গ্যাস সরবরাহ শুরু করলে কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফেরে। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই ফের গ্যাস সংকট দেখা দেয় এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর টানা প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর রোববার কারখানাটিতে আবার গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় এবং স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু করা হয়। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের সার সরবরাহে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি কারখানাকেন্দ্রিক পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা তৈরি হয়। এ ছাড়া কারখানার সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত কয়েক হাজার শ্রমিকও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।

ফজলুল হক রতন জানান, স্টার্ট-আপের বিভিন্ন ধাপ নির্ধারিতভাবে ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক ইউরিয়া সার উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে