×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লংমার্চ নিয়ে পোস্ট করেই বিপাকে পুলিশ কর্মকর্তা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৭:৪৬:১৭
লংমার্চ নিয়ে পোস্ট করেই বিপাকে পুলিশ কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ‘ঢাকা টু রংপুর লংমার্চ’ নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পোস্টটি প্রকাশের পর বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা শুরু হলে সেটি প্রথমে সংশোধন এবং পরে পুরোপুরি মুছে দেওয়া হয়।

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তার নাম খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফেসবুক পোস্টের ঘটনায় তাকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জিএমপি সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ‘ঢাকা-রংপুর লংমার্চ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়ে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।

পথসভাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোগরা বাইপাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।

পথসভা শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে লংমার্চের গন্তব্য ও দাবির পাশাপাশি কর্মসূচির সময়সূচি, অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি এবং পুলিশের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার তথ্য তুলে ধরা হয়।

পুলিশের ওই পোস্টে বলা হয়, লংমার্চটি আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে জিএমপি এলাকায় প্রবেশ করে। পরে সকাল ১০টার দিকে ভোগরা বাইপাস এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে এলাকা অতিক্রম করে। পোস্টে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগমের কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া পোস্টে জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, উপপুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের লংমার্চের নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করা হয়।

পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অনেকে পোস্টটির সমালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরপর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্টটি সংশোধন করা হয়। পরে সেটি সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়।

এরপর পোস্টটি প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদকে কমিশনারের স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাকে শোকজ করা হয়েছে।

জিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টের কারণেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে