×
ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রয়লার মুরগি কেনার সময় ৩ ভুল করবেন না

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:৩৮:০৯
ব্রয়লার মুরগি কেনার সময় ৩ ভুল করবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রয়লার মুরগি কেনা ও রান্নার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বাজার থেকে মুরগি কেনার সময় শুধু বিক্রেতার কথার ওপর নির্ভর না করে মুরগির বাহ্যিক অবস্থা ভালোভাবে দেখে নেওয়া, সংরক্ষণ ও রান্নার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রচলিত খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশনার আলোকে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা যেতে পারে।

মুরগি কেনার সময় অনেকেই বিক্রেতার কথাকেই চূড়ান্ত ধরে নেন। এটি এড়িয়ে নিজেই মুরগির তাজা ও স্বাভাবিক অবস্থা যাচাই করা ভালো। জীবিত মুরগি হলে তার স্বাভাবিক নড়াচড়া, চোখ ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা লক্ষ্য করা যেতে পারে। চোখ বন্ধ বা অস্বাভাবিকভাবে ফোলা থাকা, ডানা ঝুলে থাকা কিংবা মুরগির পেছনের অংশে অস্বাভাবিক ময়লা বা তরল পায়খানার মতো লক্ষণ দেখা গেলে সেটি না কেনাই নিরাপদ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মুরগির স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। অস্বাভাবিক আচরণ, দুর্বলতা বা দৃশ্যমান অসুস্থতার লক্ষণ থাকলে সেই মুরগি কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে শুধু বাহ্যিক লক্ষণ দেখে মুরগির নির্দিষ্ট রোগ বা সংক্রমণ নিশ্চিত করা যায় না। তাই সন্দেহ থাকলে নিরাপদ উৎস থেকে মুরগি কেনাই ভালো।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়টিও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। খামারে অসুস্থ পাখির চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলে ওষুধের নির্ধারিত ‘withdrawal period’ বা প্রত্যাহারকাল মেনে চলা প্রয়োজন। এই সময় শেষ হওয়ার আগে পাখি জবাই বা বাজারজাত না করার নিয়ম রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় ওষুধভেদে আলাদা হতে পারে; তাই সব অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে একইভাবে ৭ থেকে ১৪ দিন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বাজার থেকে কেনার পর মুরগি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা মুরগি রান্নার আগে স্বাভাবিক রং, গন্ধ ও অবস্থার বাইরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে তা ব্যবহার না করাই নিরাপদ। মাংস কাটার পর হাত, ছুরি, কাটিং বোর্ড ও রান্নাঘরের অন্যান্য পৃষ্ঠ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে কাঁচা মুরগি থেকে অন্য খাবারে জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে।

মুরগি রান্নার সময় পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় ভালোভাবে রান্না করা জরুরি। এতে মাংসে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে রান্নার সময় মাংস থেকে বেশি পানি বের হওয়া বা অতিরিক্ত নরম হওয়াকে একা অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন বা অন্য কোনো রাসায়নিকের উপস্থিতির নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে ধরা ঠিক নয়।

একইভাবে ব্রয়লার মুরগি অস্বাভাবিকভাবে মোটা হলেই তাতে হরমোন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। মুরগির জাত, বয়স, খাবার ও খামারের ব্যবস্থাপনার কারণে আকার ও ওজনে পার্থক্য হতে পারে। তাই নিরাপদ ও অনুমোদিত উৎস থেকে মাংস কেনাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মুরগির চামড়া ও অতিরিক্ত চর্বি খাওয়া নিয়ে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত বিবেচনা থাকতে পারে। তবে ‘ক্ষতিকারক উপাদান সাধারণত চামড়া ও চর্বিতে বেশি জমা থাকে’—এমন সাধারণ দাবি দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক বা রাসায়নিকের উপস্থিতি নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী চামড়া বাদ দিয়ে রান্না করা যেতে পারে, বিশেষ করে অতিরিক্ত চর্বি কমানোর জন্য।

সবশেষে, নিরাপদ উৎস থেকে মুরগি কেনা, কাঁচা মাংসের সঙ্গে অন্যান্য খাবারের সংস্পর্শ এড়ানো, যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ভালোভাবে রান্না—এই বিষয়গুলো মেনে চললে খাদ্যজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব। কোনো মুরগি বা মাংসের মান নিয়ে সন্দেহ থাকলে সেটি না খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর



রে