×
ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, ১০ ফোন চাইলে দিতাম’

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:১৭:৫৬
‘এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, ১০ ফোন চাইলে দিতাম’

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইশায়াতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনার কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনায় শোক প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু তারা মেনে নিতে পারছেন না। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত বলেও জানান তিনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শোক প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, একটি আইফোনের জন্য ইশায়াতকে হত্যা করা হয়েছে। একই পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ওই ফোনের পরিবর্তে ১০টি ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইলেও পরিবার তা দিতে রাজি থাকত।

পুলিশ জানিয়েছে, ইশায়াতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মরদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত।

এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শনিবার তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পায় পরিবার। ইশায়াতের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে