×
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তৃণমূলের নাম-প্রতীক ‘ফ্রিজ’, নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা মমতার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১০:৩৯:৪৬
তৃণমূলের নাম-প্রতীক ‘ফ্রিজ’, নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা মমতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের উত্তেজনা। ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল’ আপাতত ‘ফ্রিজ’ করে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই পক্ষের কোনো পক্ষই এই নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। বৃহস্পতিবার কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা ১৪ পাতার অন্তর্বর্তী নির্দেশিকায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশনে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে গভীর রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পরে কমিশনের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে জানানো হয়, কে দলের প্রকৃত দাবিদার—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা ঘাসের ওপর জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করতে হবে। তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দলের নাম বেছে নিতে পারবে, তবে তা মূল নামের কাছাকাছি হতে পারবে। একই সঙ্গে কমিশনের নির্ধারিত মুক্ত প্রতীক অথবা সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে প্রত্যেক পক্ষকে আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। নতুন নাম ও প্রতীক নির্ধারণের জন্য কমিশন সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে।

উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দলের নাম ও প্রতীকের বিষয়ে দুই পক্ষের দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পরবর্তী সময়ে করা হবে। আপাতত উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই শিবিরের প্রার্থীদের নতুন নাম ও প্রতীকেই ভোটে লড়তে হবে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, কমিশনের চাওয়া সব নথিপত্র তারা জমা দিয়েছেন। উপনির্বাচনের আগে প্রতীক সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি ছিল, জোড়াফুল প্রতীক তাদের পক্ষই পাওয়ার কথা।

অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীকের মালিকানা নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবির বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতীক সংক্রান্ত অধিকার ২০২৫ সালে শেষ হয়ে গেছে—এমন দাবি সঠিক নয়। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের প্রতীকের অধিকার ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও তিনি আগে জানিয়েছিলেন এবং জোড়াফুল প্রতীক তাদের পক্ষই পাওয়ার দাবি করেছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নির্দেশটি চূড়ান্ত না হওয়ায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের ভবিষ্যৎ মালিকানা নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে