×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বজনীন পেনশনে আসছে ৬ নতুন সুবিধা, বদলে যাচ্ছে যেসব নিয়ম

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১২:১৯:৩৮
সর্বজনীন পেনশনে আসছে ৬ নতুন সুবিধা, বদলে যাচ্ছে যেসব নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় করতে নতুন ছয়টি সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর বিশেষ পরিস্থিতিতে জমা অর্থ তোলার সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন, ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন চালু, ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের কমিশন বৃদ্ধি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা রয়েছে। বৈঠকে মোট ১১টি আলোচ্যসূচি রাখা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পর্ষদের অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনের চারটি কর্মসূচি চালু রয়েছে। এগুলো হলো—প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে বিবেচনায় নিয়ে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চালুর প্রায় তিন বছর পর চারটি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন। এসব গ্রাহকের জমা করা মোট অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর তা থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। কোনো কারণে চাঁদা চালিয়ে যেতে না পারলে জমা অর্থ নিয়ে জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এই নিয়মে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর কোনো গ্রাহক শারীরিক বা আর্থিক কারণে চাঁদা চালিয়ে যেতে অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় তার জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে চাঁদাদাতা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আজীবন পেনশন পান। তিনি মারা গেলে পরিবারের অন্য সদস্য নিয়মিত পেনশন পান না। তবে চাঁদাদাতা ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে নমিনি তার ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাকি সময়ের জন্য পেনশন পাওয়ার সুযোগ পান।

নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে পারে।বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় ৬০ বছর বয়সে পেনশন পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে এই বয়স কমিয়ে ৫৫ বছর করার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ৬০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর চাঁদাদাতার জমা অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ইসলামি পদ্ধতির একটি সংস্করণ চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। সুদভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে থাকতে চান এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে গ্রাহক নিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানকে ১৫ টাকা কমিশন দেওয়া হয়। এটি বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

ব্যাংক, ডাক বিভাগ, মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (এমএফএস) এবং অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন করা হয়। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এসব প্রতিষ্ঠানের কমিশনও বাড়বে।

দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি এবং মুনাফার হারের পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পেনশন তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের তহবিল গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। নতুন ছয়টি সুবিধার মধ্যে স্বাস্থ্যবিমা অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এর বিস্তারিত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।প্রস্তাবগুলো জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদিত হওয়ার পর সেগুলো বাস্তবায়নের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে