×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি সাধারণ পোস্ট যা আপনার সর্বস্ব কেড়ে নিতে পারে 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ০৮:২৮:০৮
একটি সাধারণ পোস্ট যা আপনার সর্বস্ব কেড়ে নিতে পারে 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিনই মানুষ নিজের ছবি, ভিডিও, অবস্থান, ভ্রমণ, কর্মস্থল কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানা তথ্য শেয়ার করছেন। তবে অনলাইনে দেওয়া এসব তথ্য যে ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার হতে পারে, তা অনেকেই বিবেচনা করেন না। ফলে নিজের অজান্তেই তৈরি হচ্ছে এমন এক তথ্যভান্ডার, যা সাইবার অপরাধীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আমরা যখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ছবি, লোকেশন বা ব্যক্তিগত তথ্যের আপডেট শেয়ার করি, তখনই আমাদের একটি ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ বা ডিজিটাল পদচিহ্ন তৈরি হয়। অনলাইনে আমাদের কর্মকাণ্ডের এসব ছোট ছোট তথ্য একত্রিত হয়ে ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করতে পারে। সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন উন্মুক্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে কারও চলাফেরা, আগ্রহ, পরিচিতজন এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বিষয়ে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সাধারণ ছবি বা ছোট একটি পোস্টও কখনো কখনো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তথ্য প্রকাশ করে দিতে পারে। কোনো ব্যক্তি নিয়মিত কোথায় যান, কোন সময় কর্মস্থলে থাকেন, কখন ভ্রমণে বের হন কিংবা কোন জায়গায় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান—এসব তথ্য বিভিন্ন পোস্ট, ছবির ক্যাপশন, লোকেশন ট্যাগ ও ভিডিওর মাধ্যমে অনুমান করা সম্ভব।

বিশেষ করে কেউ যদি নিয়মিত নিজের অবস্থান বা চলাফেরার আপডেট প্রকাশ করেন, তাহলে তার দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে অন্যরা ধারণা পেতে পারে। একইভাবে বাসা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা নিয়মিত যাতায়াতের জায়গার ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ একটি ছবির পেছনের দৃশ্য, সাইনবোর্ড, রাস্তার নাম কিংবা লোকেশন ট্যাগ থেকেও অতিরিক্ত তথ্য জানা সম্ভব হতে পারে।

শুধু নিজের তথ্য নয়, পরিবারের সদস্যদের তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ছবি, অবস্থান বা নিয়মিত চলাচলের তথ্য প্রকাশের আগে বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করা উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া বা নকল অ্যাকাউন্ট তৈরির ঘটনাও ঘটতে পারে। কোনো ব্যক্তির নাম, ছবি ও অন্যান্য প্রকাশ্য তথ্য সংগ্রহ করে তার পরিচয় নকল করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা সম্ভব। পরে সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বন্ধু, আত্মীয় বা পরিচিতদের কাছে বিভিন্ন ধরনের বার্তা পাঠানো কিংবা আর্থিক সহায়তা চাওয়া হতে পারে।

এ ধরনের নকল অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বা ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করা হতে পারে। তাই নিজের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও কুইকহিল টেকনোলজিসের সিইও বরুণ রোহাতগির মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কিছু শেয়ার করার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা, বাসা বা অফিসের ঠিকানা, বিমানের বোর্ডিং পাস কিংবা বিভিন্ন টিকিটের ছবি অনলাইনে প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কারণ এসব নথি বা ছবিতে থাকা নাম, নম্বর, বারকোড, কিউআর কোড কিংবা অন্যান্য তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করাই নিরাপদ।

অনেকেই মনে করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রাইভেসি সেটিংস সীমিত করে দিলেই ব্যক্তিগত তথ্য পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাইভেসি সেটিংসের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর নিজের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো ছবি বা তথ্য পোস্ট করার আগে ভেবে দেখা উচিত—এই তথ্যটি অপরিচিত কেউ দেখলে তার মাধ্যমে আমার সম্পর্কে কী জানতে পারবে? কিংবা এই তথ্য ব্যবহার করে কেউ কি আমার বা আমার পরিচিতদের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করতে পারে?

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির পাঠানো বন্ধুত্বের অনুরোধ, লিংক বা বার্তায় সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো অ্যাকাউন্ট পরিচিত মনে হলেও সেটি আসল কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সাড়া দেওয়া উচিত নয়।

ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা বাস্তবসম্মত নয়। তবে কী তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে এবং কারা সেই তথ্য দেখতে পারছে—এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, অনলাইনে কোনো কিছু শেয়ার করার আগে অন্তত দুটি প্রশ্ন করা যেতে পারে—‘এই তথ্য প্রকাশ করলে কি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে?’ এবং ‘এই তথ্য ব্যবহার করে কেউ কি আমার বা আমার পরিচিতদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবে?’

সামান্য সচেতনতা ও সতর্কতা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, লোকেশন ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে না দেওয়াই নিরাপদ অভ্যাস।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - এর সব খবর



রে