×
ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিবি হারুনের যত কোটি টাকার সম্পদ পাওয়া গেল 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ০৮:০২:৩৩
ডিবি হারুনের যত কোটি টাকার সম্পদ পাওয়া গেল 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ এবং তার ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে নানা তথ্য উঠে এসেছে। পৃথক মামলায় পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদনের কথা জানিয়েছে দুদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হারুন অর রশীদের নামে প্রায় ২০ কোটি ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার বৈধ ও সঞ্চয়যোগ্য আয় হিসেবে প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তার ঘোষিত ও বৈধ আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে হারুন ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রের বরাতে জানা যায়। এর মধ্যে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার আসিয়ান সিটিতে পাঁচ কাঠা জমির একটি প্লট, বড়ইতলীতে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ জমি ও ভবন এবং উত্তরা সেক্টর-৩ এলাকায় একটি আটতলা ভবনের তথ্য রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার ও টেকনাফ এলাকায় জমি এবং পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সমবায় সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্লটের বিষয়েও তদন্ত করা হয়েছে। এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, ক্রয়ের অর্থের উৎস কী এবং সম্পদ ঘোষণার সময় সেগুলো যথাযথভাবে দেখানো হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হয়।

দুদকের তদন্তে হারুন অর রশীদ ও তার ভাই এ বি এম শাহরিয়ারের মধ্যে সম্পদ অর্জন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যোগসাজশের অভিযোগও আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সম্পদের প্রকৃত উৎস আড়াল করা এবং পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা ও সম্পদের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন দলিল, ব্যাংক হিসাব এবং সম্পদ-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

তদন্তে ২০১৬ সালে হেবা দলিলের মাধ্যমে হারুন অর রশীদের নামে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি হস্তান্তরের একটি তথ্যও সামনে এসেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জমিটি কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কী উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করা হয়েছিল—এ বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মকর্তার আয় ও সম্পদের সঙ্গে এত বড় পরিমাণ জমির সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সম্পদের প্রকৃত উৎস কী এবং সংশ্লিষ্ট দলিলের বৈধতা ও আর্থিক বিষয়গুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়—এসব বিষয় তদন্তের অংশ ছিল বলে জানা গেছে। তবে জমি হস্তান্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা বা দলিলের বৈধতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

সম্পদের পাশাপাশি দুই ভাইয়ের ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য লেনদেনের তথ্য পেয়েছে বলে দুদকের তদন্তে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের হিসাবের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে এবং এসব অর্থের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্নীতি তদন্তে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট হিসাব, জমা ও উত্তোলনের তথ্য এবং সম্পদ কেনাবেচার সঙ্গে অর্থের সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানা যায়। আয় ও সম্পদের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেনের সামঞ্জস্য না থাকলে তা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দুদকের তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা ও উৎস আড়াল করতে পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিজের আয় বা সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকা সম্পদ সরাসরি নিজের নামে না রেখে অন্যের নামে রাখলে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। হারুন ও তার ভাইয়ের ক্ষেত্রেও সম্পদ কেনা, মালিকানা পরিবর্তন, হস্তান্তর এবং পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ রাখার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইন এড়িয়ে সম্পদের উৎস গোপন করা হয়েছিল কি না, সেটিও এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে।

ডিবি হারুন ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুদকের আনা অভিযোগ গুরুতর হলেও এগুলো এখনো বিচারাধীন অভিযোগ। দুদকের তদন্ত ও চার্জশিট কোনো ব্যক্তিকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করে না; অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণের দায়িত্ব বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। আসামিরাও আদালতে নিজেদের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। ফলে তদন্তে উঠে আসা সম্পদের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, দলিল এবং আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়গুলো আদালতে কীভাবে প্রমাণিত হয়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে