×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজকের দিনে মুক্তি পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ২২:৪৭:৩৫
আজকের দিনে মুক্তি পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের কাছে ১১ সেপ্টেম্বর নিছক একটি তারিখ নয়। এই দিনটি ফিরিয়ে আনে ৩৭২ দিনের বন্দিদশা, দীর্ঘ উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষার পর প্রিয় নেত্রীর মুক্তির সেই আবেগঘন স্মৃতি। ২০০৮ সালের এই দিনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটক থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে।

এই মুক্তির পেছনে ছিল দীর্ঘ ৩৭২ দিনের এক অধ্যায়। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়াকে আটক করা হয়। আদালতে হাজির করার পর জামিন নামঞ্জুর করে সংসদ ভবন এলাকার একটি ভবনে তাকে বন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা পরে বিশেষ কারাগারে রূপ নেয়। সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষার সেই অধ্যায়।

এই সময়ে কারাগারের বাইরে প্রতিদিন অপেক্ষা করতেন দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও আত্মীয়স্বজন। উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কেটে যেত একেকটি দিন—প্রিয় নেত্রী কবে মুক্তি পাবেন, এই প্রশ্নই হয়ে উঠেছিল তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

অবশেষে আসে সেই প্রতীক্ষিত দিন—২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। ৩৭২ দিনের বন্দিদশার অবসান ঘটিয়ে বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান বেগম খালেদা জিয়া। মুক্তির খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজপথে নেমে আসে মানুষের ঢল। কারও হাতে ফুল, কারও চোখে আনন্দাশ্রু—দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রিয় নেত্রীকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। এভাবে উদ্বেগে ভরা অপেক্ষার প্রতিটি দিনের শেষ মুহূর্তটি রূপ নেয় আনন্দ ও আবেগে, এবং ৩৭২ দিনের বন্দিদশার অবসান আর প্রিয় নেত্রীকে ফিরে পাওয়ার উচ্ছ্বাস মিলেমিশে ১১ সেপ্টেম্বরকে করে তোলে স্মরণীয়।

এরপর কেটে গেছে বহু বছর, রাজনীতির মাঠে এসেছে নানা পরিবর্তন। তবু ১১ সেপ্টেম্বরের স্মৃতি মুছে যায়নি—জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী মানুষের কাছে দিনটি আজও ফিরে আসে সেই মুক্তির স্মৃতি বহন করে। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল নানা উত্থান-পতন, সংগ্রাম, দুর্ভোগ ও প্রতিকূলতায় ভরা। তার অনুসারীদের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের প্রতীক—আর সেই দীর্ঘ পথচলার এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে আছে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যেদিন ৩৭২ দিনের বন্দিদশার পর তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।

২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর পর তাকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তা ছিল নজিরবিহীন—জীবনের শেষ অধ্যায়েও তিনি ছিলেন মানুষের ভালোবাসায় ঘেরা। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজা শেষে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও ১৯৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।

একসময় যে নেত্রীর মুক্তির অপেক্ষায় রাজপথে মানুষ দাঁড়িয়েছিল, শেষ বিদায়েও তাকে ঘিরে নেমেছিল মানুষের ঢল। তাই ১১ সেপ্টেম্বরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অপেক্ষার গল্প, উদ্বেগের দিনগুলোর স্মৃতি, বন্দিদশার কষ্ট—আবার জড়িয়ে আছে মুক্তির আনন্দ, ফুল হাতে অপেক্ষা করা মানুষ আর চোখের আনন্দাশ্রুও। ৩৭২ দিনের অপেক্ষার পর যে দিনটি এসেছিল মুক্তির বার্তা নিয়ে, বহু বছর পরও সেই দিনটি স্মৃতির পাতায় অমলিন থেকে গেছে।

বেগম খালেদা জিয়া আজ নেই। কিন্তু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতির সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বরও রয়ে গেছে একটি আবেগঘন অধ্যায় হয়ে।

তুয়া/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে