×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সে বীমা দাবি ও এফডিআরে বড় ঝুঁকি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ২২:৩৮:০৭
কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সে বীমা দাবি ও এফডিআরে বড় ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে আইন নির্ধারিত সময়সীমা না মানা এবং তিন ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থেকে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে চাপে রয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। একই সঙ্গে আগের শর্তে এসব এফডিআর আদায় করা নিয়েও বড় ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন নিরীক্ষক। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের বকেয়া বীমা দাবিগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কিছু দাবি অনিষ্পন্ন থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেছেন নিরীক্ষক। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা আইন, ২০১০-এর ৭২ ধারা অনুযায়ী জরিপ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বীমা দাবি নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। তবে নিরীক্ষায় চিহ্নিত কয়েকটি ক্ষেত্রে কোম্পানিটি ওই সময়সীমা অনুসরণ করেনি।

এদিকে বীমা দাবির বাইরে কোম্পানিটির ব্যাংকে থাকা এফডিআর নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আর্থিক বিবরণীতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের রাখা এফডিআর বিনিয়োগের তথ্য রয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫-এর আওতায় এসব ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে পরিণত হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এফডিআরের মেয়াদপূর্তির সময় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। অবশিষ্ট মূলধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে এবং ধাপে ধাপে তা উত্তোলনের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমানতকারীদের মুনাফার হার ৪ শতাংশে নেমে আসার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এসব বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি এখন স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের পরিবর্তে একটি আইনি ও নিয়ন্ত্রিত রেজল্যুশন কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

শুধু বীমা দাবি ও এফডিআর নয়, কোম্পানিটির স্থায়ী সম্পদের হিসাব সংরক্ষণ ও যাচাইয়েও একাধিক দুর্বলতা শনাক্ত করেছেন নিরীক্ষক। কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স স্থায়ী সম্পদের পূর্ণাঙ্গ রেজিস্টার সংরক্ষণ করেনি। অথচ ওই রেজিস্টারে সম্পদের বিবরণ, শনাক্তকরণ নম্বর, অবস্থান, পরিমাণ, ক্রয়মূল্য, সঞ্চিত অবচয় এবং অবচয়-পরবর্তী মূল্য থাকার কথা। কিন্তু এসব প্রয়োজনীয় তথ্যসহ রেজিস্টার পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সম্পদের নিয়মিত শারীরিক যাচাই যথাযথভাবে সম্পন্ন ও নথিভুক্ত করেনি। এর ফলে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পদের অস্তিত্ব, পূর্ণতা, মালিকানা এবং মূল্য নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করতে পারেননি নিরীক্ষক।

কোম্পানিটির শ্রমিকের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল নিয়েও নিরীক্ষায় আপত্তি তোলা হয়েছে। নিরীক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুসারে প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি হিসাবভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী পৃথক তহবিল গঠন ও পরিচালনার ব্যবস্থাও করা হয়নি।

এদিকে কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুয়েটি ফান্ড নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন নিরীক্ষক। তহবিল দুটি গত দুই বছর ধরে নিরীক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী এসব তহবিলের বার্ষিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও কোম্পানিটি তা পরিপালন করেনি।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে