×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিনিয়োগকারীর অর্থ সরানোর অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ২২:৩০:৪৩
বিনিয়োগকারীর অর্থ সরানোর অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ বিএসইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনিয়োগকারীর অজান্তে শেয়ার কেনাবেচা, মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা এবং বিও হিসাবে জমা অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিও হিসাবে জমা থাকা মূল অর্থ ফেরত এবং কেটে নেওয়া সুদ মওকুফের আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদ। তার অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)।

সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের শেয়ারবাজার-১ শাখা থেকে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিরপুর-১০ নম্বর এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজে আবুল কালাম আজাদের জমা করা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে করা আবেদনটি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদ। ব্রোকারেজ হাউজটির ০৩৯২৬ কোডের বিও হিসাব পরিচালনায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি জমা করা অর্থ ফেরত এবং কেটে নেওয়া সুদের অর্থ মওকুফের আবেদন করেন।

আবেদনে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখা তার বিও হিসাবে অজ্ঞাতসারে এ পর্যন্ত জমা করা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা দিয়ে বিভিন্ন নিম্নমানের শেয়ার কেনাবেচা করেছে। বেশিরভাগ লেনদেন নাহিদ, আসিফ, মাকসুদ ও সানি নামের ট্রেডাররা তার অনুমতি ছাড়াই করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মার্জিন হিসাব ব্যবহার করে নন-মার্জিন শেয়ারও কেনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এসব শেয়ারের মধ্যে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ও ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের মতো কোম্পানির শেয়ার রয়েছে। এসব শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও তার কোনো অনুমতি বা নির্দেশনা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া কোনো ধরনের ক্রয়াদেশ ছাড়াই বিভিন্ন নিম্নমানের শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এসব লেনদেনের কারণে তার হিসাবে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া এভাবে শেয়ার কেনাবেচার ফলে বিনিয়োগের অর্থেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর সুদ মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই আবেদনের কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। আবেদনটি এখনো ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কার্যালয়ে ফাইলবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৬ নভেম্বরের পোর্টফোলিও তুলনা করলে তার হিসাব থেকে ফান্ড সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি পাওয়া যাবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিইও আরেফিন, নাজমা খাতুন ও আদনান দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন আবুল কালাম আজাদ।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়া তার বিও হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা করা হলে সেটি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একইভাবে মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা এবং বিনিয়োগকারীর অর্থ অন্যভাবে ব্যবহারের অভিযোগও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীর সম্পদ সুরক্ষার ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর অর্থ ও স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে