×
ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালমান শাহ হত্যা: ডনের আচরণে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:৩৭:১৭
সালমান শাহ হত্যা: ডনের আচরণে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ 

নিজস্ব প্রতিবেদক : চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে তার কাছ থেকে মৃত্যু রহস্যের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।

সিআইডির দাবি, পলাতক আসামিদের চিনলেও তাদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করছেন ডন। সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে মামলার ঘটনা সম্পর্কে তার আরও তথ্য জানার কথা থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কৌশলে অনেক বিষয় এড়িয়ে গেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য ডন গোপন করছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয় ও মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে ডন অত্যন্ত কৌশলী আচরণ করেছেন। পলাতক আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের চেনেন বলে স্বীকার করলেও অনেক তথ্য গোপন করেছেন।

আবেদনে দাবি করা হয়, মামলার ঘটনার আগে, ঘটনার সময় এবং পরে ডনের আচরণ ও চালচলন পর্যালোচনা করে তার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রায় ৩০ বছর আগে সালমান শাহর মৃত্যুর আগে বেশ কয়েকটি সিনেমায় তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন ডন। খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি সালমানের সঙ্গে তার বন্ধুত্বও ছিল আলোচিত।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে নিজের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়।

ঘটনাটি তদন্ত করে থানা পুলিশ, সিআইডি ও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়। এসব তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।তবে শুরু থেকেই সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে রাজি ছিলেন না।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আদালত অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।

গত ৯ আগস্ট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় সিআইডি।

মামলায় ডনের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে।

সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার আবেদন করা হয়।

আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করে ওই বছরের ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলা হয়। পরে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন চৌধুরী।

২০০৩ সালের ১৯ মে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান। দীর্ঘ সময় পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ওই তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেখানেও সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কমরউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর মামলার বাদী হন নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন।

পরে মামলাটির তদন্ত করে পিবিআই। তারাও ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয়। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

এর বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করেন নীলা চৌধুরী। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর আদালত অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।এরপর সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম হত্যা মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর



রে