×
ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হেবা আইন, শরিয়াহ ও জিয়ার সন্তান—এক পোস্টে যা বললেন অধ্যাপক যাকারিয়া

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৮:০২:৪৩
হেবা আইন, শরিয়াহ ও জিয়ার সন্তান—এক পোস্টে যা বললেন অধ্যাপক যাকারিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়াউর রহমানের সন্তান ও অনুসারীদের দীন, আকীদা ও শরিয়াহবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া।

একই সঙ্গে তাদের সামান্য ভুলকে বড় করে তুলে ধরে অন্যদের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন তিনি।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন অধ্যাপক যাকারিয়া।

পোস্টের শুরুতে জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তিনি। অধ্যাপক যাকারিয়ার ভাষ্য, বাংলাদেশের শাসকদের মধ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন একজন ব্যক্তি, যিনি যুগ যুগ ধরে প্রশংসিত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও হবেন।

তার দাবি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সংবিধানে জিয়াউর রহমান ইসলামের পক্ষে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। এর মধ্যে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং আলেম-ওলামাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখার মতো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মাদ্রাসার কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সফরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অধ্যাপক যাকারিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর কামিল পর্যায়ে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে জিয়াউর রহমান সফর করতে পছন্দ করতেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে লেখেন, ‘যদি জিয়াউর রহমান রাহিমাহুল্লাহ ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাসন ক্ষমতায় থাকতেন হয়ত আমিও সে সুযোগটি পেয়ে যেতাম।’

অধ্যাপক যাকারিয়া তার পোস্টে লেখেন, ‘জিয়ার সন্তান ও অনুসারীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে তারা দীন, আকীদা ও শরিয়াহবিরোধী কিছু করবেন না।’

তাদের সামান্য ভুলকে অন্যরা বড় করে তুলে নিজেদের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।পোস্টের পরের অংশে সম্প্রতি পাস হওয়া হেবা-সংক্রান্ত আইন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধ্যাপক যাকারিয়া।

তার মতে, আইনটির বাহ্যিক উদ্দেশ্য পিতা-মাতাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর প্রবণতা রোধ করা হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পিতা-মাতার সম্পদ হস্তান্তর, দান, উইল এবং সন্তানদের মধ্যে সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়াহর নীতিমালা বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিশেষ করে হেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো সন্তানকে বঞ্চিত করা কিংবা শরিয়াহর মীরাস বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ধরনের আইন প্রণয়নের আগে আলেমদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান অধ্যাপক যাকারিয়া। তার মতে, বিষয়টিকে শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আইন করার সুযোগ নেই। ইসলামী শরিয়াহকে তিনি মানবিকতার সর্বোচ্চ নীতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোস্টের শেষাংশে শাসকদের দায়িত্বের প্রসঙ্গ তুলে অধ্যাপক যাকারিয়া বলেন, ইসলামে একজন শাসকের প্রথম কর্তব্য হলো ‘দীন সংরক্ষণ করা’।

জিয়ার সন্তান ও অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাদের সামনে নন্দিত হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা কেন নিন্দিত হওয়ার পথ বেছে নেবেন।পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।’

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে