×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হজযাত্রীদের জন্য সৌদির নতুন নিয়মে যা আছে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ১৬:৪৪:৪১
হজযাত্রীদের জন্য সৌদির নতুন নিয়মে যা আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম আরও কঠোর করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হজের ভিসা ইস্যুর আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে মেডিকেল ফিটনেস বা ‘হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ নিতে হবে।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই হেলথ ক্লিয়ারেন্সের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। গুরুতর কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হজ পালনের জন্য স্বাস্থ্য ছাড়পত্র নাও পেতে পারেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামিক ওয়েব পোর্টাল দ্য ইসলামিক ইনফরমেশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের (১৪৪৮ হিজরি) হজের ভিসা পাওয়ার আগে প্রত্যেক যাত্রীকে ‘হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই সনদ দেওয়া হবে।

নুসুক মাসারে হেলথ ক্লিয়ারেন্সের প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও অনুমোদিত হওয়ার পরই হজের ভিসা ইস্যু করা হবে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর প্রবেশপথেও স্বাস্থ্য সনদ পরীক্ষা করতে পারে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

হজে যাওয়ার আগে প্রত্যেক যাত্রীকে মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। বিভিন্ন দেশে স্থানীয় মেডিকেল স্ক্রিনিং কর্মসূচির আওতায় এ পরীক্ষা একাধিক ধাপেও হতে পারে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো ব্যক্তি হজ পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন কি না, তা নিশ্চিত করা। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কয়েকটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে হজ পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

গুরুতর অঙ্গ বিকলতা: ডায়ালাইসিস-নির্ভর কিডনি বিকল হওয়া বা সামান্য শারীরিক পরিশ্রমেই উপসর্গ দেখা দেয় এমন হার্ট ফেইলিওর।

গুরুতর ফুসফুসের রোগ: এমন দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, যাতে সার্বক্ষণিক বা কৃত্রিম অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়।

গুরুতর স্নায়বিক বা মানসিক সমস্যা: এমন তীব্র ব্যাধি, যা স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি বা কগনিশনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে অথবা গুরুতর মোটর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

ডিমেনশিয়া: বার্ধক্যজনিত ডিমেনশিয়া বা চরম স্মৃতিভ্রংশ।

ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা: ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা বা গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস।

সক্রিয় ক্যান্সার: বর্তমানে কেমোথেরাপি বা নিবিড় ইমিউনোসপ্রেসিভ চিকিৎসা চলছে এমন সক্রিয় ক্যান্সার।

গুরুতর সংক্রামক রোগ: জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ, যেমন ওপেন পালমোনারি টিউবারকিউলোসিস।

নতুন স্বাস্থ্যবিধিতে হজের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাঁটার ক্ষেত্রে সামান্য সহায়তার জন্য লাঠি ব্যবহারের অনুমতি থাকতে পারে। তবে চলাফেরার জন্য সম্পূর্ণভাবে হুইলচেয়ার বা ইলেকট্রিক স্কুটারের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সাধারণত হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

হেলথ ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালু হলেও হজের বাধ্যতামূলক টিকার নিয়ম বাতিল হচ্ছে না। স্বাস্থ্য সনদ ও টিকা—দুটিই পৃথক শর্ত হিসেবে বহাল থাকবে।

বিশেষ করে কোয়াড্রিভ্যালেন্ট মেনিনজোকোক্কাল ACWY টিকাসহ সৌদি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অন্যান্য প্রয়োজনীয় টিকা নিতে হবে। অর্থাৎ, হেলথ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেলেও টিকার শর্ত পূরণ করতে হবে।

বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় হজ কমিটি বা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। ফলে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়সীমা ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় দেশভেদে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

হজযাত্রীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অননুমোদিত উৎসের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ দেশের জাতীয় হজ কমিটির নির্দেশনা এবং সৌদি আরবের সরকারি ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে