×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাসিনা জয়ের দ্বন্দ্ব

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ০৯:১৯:৩০
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে হাসিনা জয়ের দ্বন্দ্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতকে জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা যেন দেশটির মাটি ব্যবহার করে এমন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করেন, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

ভারত সরকারও আগে জানিয়েছিল, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানকালে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না। তবে সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং নিজের দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব শেখ ফজলুল করিম সেলিম পালন করবেন। এই বক্তব্যকে ঘিরে দলের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কারণ এর আগে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, শেখ পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন না। ফলে মা ও ছেলের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে এবং ভবিষ্যতে কারা সামনে আসবেন—এ নিয়ে দলটির ভেতরেও নানা আলোচনা রয়েছে।

শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি রাখছেন।

তবে দেশে ফেরার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এমনকি বিমানবন্দরেই তাঁকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ও নিরাপত্তাগত বিষয় কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানায়।

এর জবাবে ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ফলে সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যকে ভারতের সরকারি অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও দেশটির পক্ষ থেকে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় দলটির শীর্ষ নেতার এমন রাজনৈতিক বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা এবং ভারত থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য—এই তিনটি বিষয় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু। আগামী দিনে ভারত এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয় এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে