×
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সূচকের কৃত্রিম উত্থানে কি বাজারের সংকট আড়াল হচ্ছে?

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১৫:০২:১২
সূচকের কৃত্রিম উত্থানে কি বাজারের সংকট আড়াল হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক : অস্বাভাবিক দরপতনের কারণে দেশের শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজার ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে তা ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। ৬ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকে ধারাবাহিক পতন দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকালও বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে লেনদেন শুরু হয়। দিনের প্রথমভাগে সূচকের পতন থাকলেও মধ্যাহ্নের পর হঠাৎ করে এর গতি ঊর্ধ্বমুখী হয়। শেষ পর্যন্ত প্রধান সূচক সামান্য পয়েন্ট যোগ করে দিন শেষ করলেও অপর দুটি সূচক পতনেই ছিল। একই সঙ্গে টাকার অঙ্কে লেনদেন কিছুটা বাড়ার পাশাপাশি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও বেড়েছে।

তবে দিনের শেষে প্রধান সূচকের এই সামান্য উত্থানকে স্বাভাবিক কিংবা সন্তোষজনক বলে মনে করছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সূচকের এই উত্থান বাজারের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত করছে না।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে বর্তমান কমিশনের ব্যর্থতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাদের মতে, বর্তমান কমিশন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা প্রদর্শন করতে পারছে না। বাজারকে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া কমিশনের দায়িত্ব হলেও তারা বাজারের স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করার পরিবর্তে শুধু বিভিন্ন সংস্কার ও পদক্ষেপ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের কাছে এমন কর্মকাণ্ড কাম্য নয়।

তাদের দাবি, মাত্র ১০ কর্মদিবসের ব্যবধানে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার মূলধন কমে গেছে। একই সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে প্রায় ১৫৫ পয়েন্ট। আজ মধ্যাহ্ন পর্যন্ত সূচকের অস্বাভাবিক পতনে কমিশন কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ে। এরপর নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই কৃত্রিমভাবে সূচক বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাদের আরও বক্তব্য, কমিশন যদি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণে সক্ষম না হয়, তাহলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় বিনিয়োগকারীরা এবার শুধু বাজার স্থিতিশীল করার দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; কমিশনের পদত্যাগের দাবিতেও আন্দোলনে নামতে পারেন।

বাজারের আজকের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৬৭ দশমিক ৪২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৪ দশমিক ৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক ২৭ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৩ দশমিক ৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৭০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৫০টির কমেছে এবং ৬৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিন শেষে ডিএসইতে প্রায় ৫৭১ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ মোট ১৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেনও বেড়েছে।

আজ সিএসইতে মোট ১৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫১টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ১১৫টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ দশমিক ০৮ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৯১৯ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কর্মদিবসে এই সূচক ১৭১ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে